অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে আমাদের দেশের শিশুরা। মেধা আর মননে শিশুদের বিকশিত হওয়ার অন্তরায় হয়ে উঠছে এই আসক্তি। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু-কিশোর এখন পাবজি, ফ্রি-ফায়ার, ক্ল্যাশ অর ক্ল্যান্স, কল অব ডিউটি, কমব্যাট স্ট্রাইক গো ইত্যাদি অনলাইন গেমে আসক্ত। কৌতূহল থেকে শিশুরা অনলাইন গেম খেলা শুরু করে। এক সময় তা নেশায় পরিণত হয়। আসক্ত শিশুরা আহার-নিদ্রা আর পড়াশোনা ভুলে মত্ত হয়ে থাকে গেমে।
এ ধরনের ইন্টারনেটভিত্তিক গেমে শিশু-কিশোরদের অপরাধপ্রবণতাও বেড়ে যাচ্ছে আজকাল। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা যায়, শিশু-কিশোররা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ধাবিত হয় এসব গেমে প্রভাবিত হয়েই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৈরি হয়েছে কিশোর গ্যাং, যা ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশু-কিশোরদের গেমের প্রতি এই আসক্তিকে মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যান্য নেশার মতো ইন্টারনেটে অধিক সময় ব্যয় করে গেমসখেলাও এক ধরনের আসক্তি।
অধিকাংশ ভিডিও গেমের কনটেন্ট যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাত নিয়ে, যা কোমলমতি শিশুদের মানসিক বিকাশের অন্তরায়। বর্তমানে শুধু শহর এলাকায় নয়, ভিডিও গেমের দিকে ঝুঁকছে গ্রামের শিশু-কিশোররাও। ইদানীং মফস্বলের শিশু-কিশোররাও দল বেঁধে ভিডিও গেম খেলছে। খেলার মাঠ থাকা সত্ত্বেও ভিডিও গেমের দিকে ঝুঁকে পড়া শঙ্কার বৈ কি।
তেজগাঁও, ঢাকা

বিষয় : অনলাইন আসক্তি

মন্তব্য করুন