আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে কোনো ধরনের থোক বরাদ্দ প্রস্তাব না করার জন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ বিভাগ। পাশাপাশি বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি যেসব ক্ষেত্রে ব্যয় অনুমোদন করেছে, সেখানেই বরাদ্দ প্রাক্কলন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অননুমোদিত স্কিমের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা যাবে না।

গতকাল সোমবার অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের প্রাক্কলন এবং ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রক্ষেপণ প্রণয়নের জন্য এই পরিপত্র জারি করেছে অর্থ বিভাগ।

পরিপত্রে আসন্ন বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধির সামঞ্জস্য রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে বর্তমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। পাশাপাশি বাজেট বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

এতে বলা হয়েছে, সরকারের কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়ক হয় এমন সুনির্দিষ্ট কার্যক্রমের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। সাধারণভাবে বাজেটে কোনো ধরনের থোক বরাদ্দ প্রস্তাব করতে পারবে না মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। সরকারের কৌশলগত উদ্দেশ্য হচ্ছে- অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে বৈষম্য কমানো ও দারিদ্র্য নিরসন।

আর বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) আগামী তিন বছরে যে পরিমাণ বৈদেশিক সহায়তার প্রক্ষেপণ করেছে, সে অনুযায়ী প্রকল্প সহায়তা এবং পুনর্ভরনযোগ্য প্রকল্প সহায়তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর বাইরে কোনো ধরনের সহায়তা বরাদ্দ প্রস্তাব করা যাবে না। একই সঙ্গে সরকারি অনুদানে পরিচালিত স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়ের পরিমাণ বিবেচনা করে ব্যয়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নূ্যনতম ব্যয় বিবেচনা করে বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকল্পওয়ারি বরাদ্দ ঠিক করবে। প্রয়োজনে বরাদ্দ পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে। তবে মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মোট বরাদ্দ অতিক্রম করা যাবে না।

তবে প্রকল্পের অগ্রাধিকার ঠিক করে বরাদ্দ প্রস্তাব করার নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ বিভাগ। উচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্পের বরাদ্দ নিশ্চিত করেই কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বরাদ্দ প্রস্তাব করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যয়সীমার মধ্যে প্রকল্প সাহায্য ও নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বাবদ অন্তর্ভুক্ত। ফলে প্রকল্প সাহায্য ও নগদ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় বিবেচনা করে প্রকল্পের বরাদ্দ প্রাক্কলন করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে ব্যয়সীমার বাইরে কোনো অর্থ দেওয়া হবে না।

আগামী ৮ মের মধ্যে মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের বরাদ্দের প্রাক্কলন এবং ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রক্ষেপণ অর্থ বিভাগে দাখিল করতে হবে। আগামী ৯ জুন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাবদ দুই লাখ ৪৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করেছে অর্থ বিভাগ, যা আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য জিডিপির ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এডিপি বাবদ দুই লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।