বইয়ে হাতের লেখাটি সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের বলেই প্রমাণিত হয়েছে। একজন নারীর কাছ থেকে উপহার হিসেবে বইটি পেয়েছিলেন বাবুল আক্তার। স্ত্রী মাহমুদা খাতুন মিতু হত্যা মামলায় সেই বইটি আলামত হিসেবে জব্দ করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। 

বৃহস্পতিবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন। এর আগে গত ১৪ মার্চে মাহমুদা হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারের হাতের লেখা পরীক্ষা করে দেখার জন্য আদালতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন তখনকার মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আদালতে বাবুল আক্তারের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে করা আবেদনে বলা হয়েছিল, মিতু হত্যা মামলায় আলামত হিসেবে জব্দ করা নানা জিনিসপত্রের মধ্যে একটি বইও রয়েছে। বইটি একজন বাবুল আক্তারকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। তদন্তের স্বার্থে বইয়ের লেখা পরীক্ষা করতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে লেখা পরীক্ষা করেন।

আদালতে তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে যে প্রতিবেদনের জমা দেওয়া হয় তার মতামত অংশে বলা হয়, সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের প্রামাণ্য ইংরেজি ভাষার হাতের লেখা ও উপহার পাওয়া বইয়ের পাতায় থাকা নমুনা লেখার মধ্যে মিল রয়েছে। বইয়ের পাতায় ইংরেজি ভাষায় লেখা তুলনামূলক পরীক্ষায় লেখার সাধারণ ও ব্যক্তিগত উভয় বৈশিষ্ট্যেরই মিল রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআইয়ের প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, বাবুল আক্তার উপহার হিসেবে যে বইটি একজন নারীর কাছ থেকে পেয়েছিলেন, তাতে যে লেখা রয়েছে, সেটি পরীক্ষা করে বাবুল আক্তারের লেখার সঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সিআইডি। একই কথা বলেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুকও।

২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরের জিইসি এলাকায় বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই গত বছরের ১২ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। কিন্তু একইদিন বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন পাঁচলাইশ থানায় আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় বাবুল আক্তারসহ আটজনকে আসামি করা হয়।