মুজিব জলবায়ু পরিকল্পনা অনুসারে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত, জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ এবং আগামী প্রজন্মকে জলবায়ু দুর্যোগ থেকে রক্ষাসহ ৫ দফা দাবিতে খুলনায় রিকশা শোভাযাত্রা করেছে দুটি পরিবেশবাদী সংগঠন। ব্যতিক্রমী এই শোভাযাত্রার মূল প্রতিবাদ্য ছিল 'পৃথিবী বাঁচাতে প্যাডেল চালাও'।

রোববার নগরীর শিববাড়ি থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে ময়লাপোতা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরিবেশবাদী সংগঠন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) এবং ঋণ ও উন্নয়ন বিষয়ক এশীয় জনআন্দোলন (এপিএমডিডি) যৌথভাবে এর আয়োজন করে। শোভাযাত্রায় খুলনার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীতে একটি উদাহরণ তৈরি করতে পারে। কিন্তু এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

বক্তারা বলেন, সরকারের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়ে গেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে তিন শতাংশেরও কম। অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাস্তবায়ন আরও কঠিন করা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাস্তবায়ন করতে হলে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী উন্নত দেশগুলো থেকে শর্তহীন প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। কিন্তু উন্নত বিশ্ব আমাদের দুর্যোগকে কেন্দ্র করে ঋণের ব্যবসা করতে চায়। এ আচরণের বিরুদ্ধে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর নেতা হিসেবে বাংলাদেশকেই কথা বলতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট খুলনার সভাপতি হুমায়ুন কবির ববি, সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী, বাংলাদেশের বৈদেশিক দেনা বিষয়ক কর্ম জোটের সদস্য সচিব হাসান মেহেদী, কৃষক নেতা শ্যামল সিংহ রায়, লেখক ও শিক্ষক আবুল ফজল, গবেষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরী, অধ্যাপক ইমরান হোসেন, অধ্যাপক উল্লাসিনী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হাসান হিটলু, শেখ আবু হানিফ, ক্লিনের সমন্বয়কারী মাহবুব আলম প্রিন্স, সেজিনা খান সুকন্যা প্রমুখ।