ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলের আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যাদি সরবরাহ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ইভ্যালির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের কাছে এসব তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট ( কোম্পানি) বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন। আদালত কর্তৃক নিযুক্ত ইভ্যালির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়।

আদেশে যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে, সেগুলোর হলো ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, বিকাশ লিমিটেড, ডাচ বাংলা ব্যাংক ও নগদ লিমিটেড। 

এছাড়া ইভ্যালির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার আর্থিক লেনদেন ইস্যু করা চেক সংক্রান্ত মামলায় বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকদের নামে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়ে থাকলে, তা বাতিল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও বলা হয়েছে। সব জেলা জজ, মেট্টোপলিটন সেশন জজ, চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্টেট ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোর্শেদ আহমেদ খান। শামীমা নাসরিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী শামীম আহমেদ। ইভ্যালির গ্রাহক ফরহাদ হোসেনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসেন।

পরে আইনজীবী মোর্শেদ আহমেদ খান সাংবাদিকদের বলেন, অডিট কার্যক্রমের স্বার্থে ইভ্যালির আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। তাই ইভ্যালি, ইভ্যালির সাবেক চেয়ারম্যান ও সিইওর আর্থিক লেনদেনের তথ্যসংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেন সরবরাহ করে-এমন নির্দেশনা চেয়ে আবেদনটি করা হয়। 

আদালত শুনানি নিয়ে আদেশ দিয়েছেন। আদশে, ইভ্যালির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে নতুন বোর্ড গঠনের আগ পর্যন্ত ইভ্যালিসহ তাদের আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করতে সংশ্নিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে এক গ্রাহকের আবেদনে গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি ও হস্তন্তারের নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিকতায় পরে ৩০ সেপ্টেম্বর রিট আবেদনকারী পক্ষ ফের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আরজি জানালে ইভ্যালির যাবতীয় নথি তলব করেন হাইকোর্ট। 

এছাড়া একই বছরের ১৮ অক্টোবর হাইকোর্ট ইভ্যালির ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নিতে পাঁচ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেন। পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হয় আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে। গতকাল ওই পর্ষদের আবেদনেই আদেশ দেওয়া হয়।