নিউমার্কেটে ফ্যাসাদ বাদিয়ে কক্সবাজারে পালানোর পর সেখানে নতুন চাকরি খুঁজছিলেন ওয়েলকাম ও ক্যাপিটেল ফাস্টফুডের দুই কর্মচারী মেহেদী হাসান বাপ্পী ও মোয়াজ্জেম হোসেন সজীব।

ঘটনার পরপরই তারা কক্সবাজার গিয়ে বেশভুষা বদলে চাকরির জন্য বেশ কয়েকটি হোটেলে বায়োডাটাও জমা দেন। 

বাপ্পী ও সজীব ছাড়াও মাহমুদুল হাসান সিয়াম নামে ঢাকা কলেজের আরেক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। শরীয়তপুরে এক আত্মীয়র বাসায় আত্মগোপন করে ছিলেন মাহমুদুল। ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনিই রড দিয়ে নাহিদকে পেটাচ্ছিলেন।

বুধবার কক্সবাজার ও শরীয়তপুরে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৩-এর একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে। 

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামলার প্রেক্ষাপট ও জড়িতদের ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। বাপ্পীর গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর, সজীবের কেরাণীগঞ্জে ও মাহমুদুলের শরীয়তপুরের নড়িয়ায়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান,সংঘর্ষের জেরে কর্মচারী নাহিদকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 


মূলত দুই কর্মচারী নিজেদের ‘হিরোইজম, ইগোইজম’ প্রকাশ করার জন্য এবং নিজেদের আধিপত্য দেখানোর জন্য বেশকিছু দুস্কৃতকারীদের ফোনের মাধ্যমে খবর দেয় দুই দোকানকর্মী। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের উসকানো গুজব ছড়িয়ে সংঘর্ষকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। 

নাহিদকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ইমন বাশারকে শনাক্ত করা গেলেও তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

র‌্যাব জানায়, ১৮ এপ্রিল ইফতার চলাকালে দোকানে বসাকে কেন্দ্র করে ওয়েলকাম এবং ক্যাপিটাল ফাস্টফুডের কর্মচারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর বাপ্পী ও সজীব নিজেদের ক্ষমতা দেখানোর জন্য ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের খবর দেয়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দোকানের কর্মচারীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

খন্দকার আল মঈন সংবাদ সম্মেলনে জানান, হাতাহাতির ঘটনার বিষয়টি ভিন্নভাবে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করে তাদের উসকে দেওয়া হয়। প্রচার করা হয়েছিল পোশাক কিনতে গিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি এবং এক পর্যায়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করা হয়। এই খবর শুনেই মূলত শিক্ষার্থীরা দোকানে এসে হামলা চালায়। 

সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেলের আঘাতে কর্মচারী নাহিদ রাস্তার পাশে পড়ে যায়। নাহিদ রাস্তার ওপর পড়ে গেলে রড দিয়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সিয়াম প্রথম তাকে আঘাত করে। পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে কোপাতে থাকে নাহিদ।

র‌্যাব বলছে, সিয়ামের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। এখন ইমনকে খোঁজা হচ্ছে। তবে সে দেশ ত্যাগ করেছে কি-না এ ব্যাপারে র‌্যাবের হাতে কোনো তথ্য নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের সিসিটিভির ফুটেজ খোঁজা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। অনেকে আত্মগোপনে রয়েছে। যারা সাংবাদিকদের ওপর আঘাত করেছে তারা বহিরাগত এবং কিছু দোকান কর্মচারীও ছিল। 

ঘটনার পর বাপ্পী ও সজীব কক্সবাজারে আত্মগোপন করে। নিজের পরিচয় লুকানোর জন্য তার লম্বা চুল কেটে ছোট করে। কপবাজারের আবাসিক হোটেলে নতুনভাবে চাকরি খুঁজছিলেন।

সংঘর্ষের মোট পাঁচটি মামলা হয়েছে। আসামির সংখ্যা ১ হাজার ৭২৪। এর মধ্যে হত্যা মামলা দুটি, যেগুলোর তদন্ত করছে ডিবি। অন্য তিনটি মামলা তদন্ত করছে নিউমার্কেট থানার পুলিশ। 

নাহিদকে হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। তারা হলেন মো. আবদুল কাইয়ুম, পলাশ মিয়া, মাহমুদ ইরফান, মো. ফয়সাল ইসলাম ও মো. জুনাইদ বোগদাদী। 

তারা সবাই ঢাকা কলেজের ছাত্র। সংঘর্ষের সময় তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে সামনের সারিতে ছিলেন। ঢাকা কলেজের একাধিক সূত্র জানায়, এই পাঁচজনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।