শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের বাঙালিদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। আর তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে। তিনি যে পথ ধরে চলছেন, এই পথ তার পিতার দেখানো পথ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ সঠিক পথে আছে এবং সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাবে।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'বাঙালির আশীর্বাদ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা' গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে আরও বেশি গবেষণা ও প্রকাশনার আহ্বান জানান।

'৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস' মন্তব্য করে দীপু মনি বলেন, 'এই ৭ মে শেখ হাসিনা যেন দেশে না আসতে পারেন, এজন্য নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। দলীয় নেতাকর্মীরা যেন তাকে রিসিভ না করতে যান, সেজন্য কড়াভাবে নিষেধ করা হয়েছিল। এমনকি যে বিমানে তিনি আসবেন, সেই বিমানকে লিখিতভাবে বলা হয়েছিল শেখ হাসিনাকে যেন বহন করা না হয়। কিন্ত জনগণের ভালোবাসার কাছে কিছুই বাধা মানেনি।'

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, 'বঙ্গবন্ধু ছিলেন মাটির মানুষ। কর্মে তিনি মহামানব। এখন তাকে নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা শুরু হয়েছে। আরও গবেষণা করতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণার দরকার আছে। কারণ, এখনও আমরা তাকে পুরোপুরি আবিস্কার করতে পারিনি। বঙ্গবন্ধুর এক একটা কথা বা উক্তি এক একটা বাণী হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর এক একটা উক্তি, এক একটা দিকনির্দেশনা ছিল, সেগুলো নিয়ে গবেষণা করা দরকার।'

 'বাঙালির আশীর্বাদ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা' গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, 'শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাত্র ১৩ বছরে বাংলাদেশ পাল্টে গেছে। দেশের মানুষের অভাব দূর করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। নতুন প্রজন্ম মঙ্গা শব্দের সঙ্গে আর পরিচিত নয়। দেশের প্রতিটা মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তিনি।'

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তৃতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চায অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। আর শেখ হাসিনা ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখলে ভালোভাবে জেনে নিয়ে তারপর লেখা উচিত।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপার্চায অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ বলেন, রাজনীতি ও অর্থনীতির বাইরে সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার বিরল অবদান রয়েছে যা নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না।

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চায অধ্যাপক ড. শাহ আজম শান্তনু বলেন, আজকের যা কিছু উন্নয়ন, তার প্রধান রুপকার বঙ্গবন্ধু। তিনিই সব কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। কৃষি, অর্থনীতি, শিক্ষা, পল্লী উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচন সব কিছুতেই বঙ্গবন্ধুর অবদান লক্ষ্য করার মতো।

বেরোবির শিক্ষক মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মাঝে বক্তৃতা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সভাপতি লায়ন গণি মিয়া বাবুল, প্রকাশিত গ্রন্থটির লেখক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান এবং সম্প্রীতি প্রকাশের স্বত্ত্বাধিকারী এ কে এম ওবায়দুর রহমান।