বাস সঙ্কটে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে ঢাকাফেরত যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। 

গত শনিবার ভোর থেকে চলমান পরিবহন সঙ্কট রোববার সকালে আরও তীব্র হয়েছে। এদিনও দুই থেকে তিনগুণ ভাড়া দিয়ে ট্রাক, পিকআপে যাত্রীদের ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা গেছে।  

যারা কোনো পরিবহনে উঠতে পারছেন না, তারা দীর্ঘ সময় ঘাটেই বসে থাকছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। 

যাত্রীদের অনেকে অভিযোগ করছেন, যেসব বাসে উঠা যাচ্ছে সেগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। 

রাজবাড়ী থেকে যাত্রী ফজলে শেখ বলেন, পরিবহন সঙ্কট তীব্র হয়েছে। বাসে অতিরিক্ত ভাড়া চাইছে। ঢাকা ফিরবো কিভাবে জানি না। 

শিবালয় বাস মালিক সমিতির সভাপতি আলাল উদ্দিন আলাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাত্রীদের কাছে থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। 

শিবালয় থানার ওসি শাহিনুর রহমান জানান, যাত্রীদের কাছে থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে দুর্ভোগে পড়েছেন ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরে আসা যাত্রীরা। এই ঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের সারি দীর্ঘতর হয়েছে। যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। 

রোববার সকালেও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ পৌর জামতলা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার এলাকায় যানজট লেগে ছিল।  

৭-৮ ঘণ্টা বাসে বসে থেকে উপায়ান্তর না দেখে পায়ে হেঁটে ঘাটে চলে আসছেন অনেকে।

এদিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড়ে ৩ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রাখা হয়েছে। 

দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, শিমুলিয়া- মাঝিরকান্দি নৌরুটে নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ওই নৌরুটে যানবাহনগুলো এ নৌরুটে আসা, আবার ছুটি শেষ যে কারণে ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘাট এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যাবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২১টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে।