গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার আগামী নির্বাচনে ভোট কারচুপির হ্যাটট্রিক করতে যাচ্ছে। প্রথমবার বিনা ভোটে, দ্বিতীয়বার রাতের ভোটে আর এবার ইভিএমে। ইভিএমে ভোট যে প্রতীকেই দেন না কেন, ভানুমতির খেলায় তা গিয়ে নৌকায় পড়বে।

রোববার রাজধানীর পল্টনে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ আয়োজিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আছে, দুঃখও আছে। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েন। আপনি যদি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারেন তা হলে ভালো। আর না পারলে আপনার নৈতিক দায়িত্ব হবে পদত্যাগ করা। সঠিক কাজটি করতে না পারলেও অন্তত ভুল করবেন না।'

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেছেন তাদের অপরাধ কী? ১৩ বছর ধরে বিনা ভোটে ক্ষমতায় আছেন। এবার মেহেরবানি করে নামেন। এই সরকারের অধীনে কেউ নির্বাচনে যাবে না। যারা এর অধীনে নির্বাচন করবে, তারা জাতীয় বেইমান।‘

সরকারের উদ্দেশে গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া বলেন, ভোট চুরি, গুম, হত্যা আর কত অপরাধের কথা বলতে হবে? আপনারা সামনে বা পেছনের দরজা না, জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকেছেন। সবাইকে একত্রে রাস্তায় নেমে এই সরকারের পতনের দাবিতে আন্দোলন করতে হবে।

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, সরকারের দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির ফলে দেশ একটি বড় সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। মনে রাখবেন, নগর পুড়লে দেবালয় বাদ যায় না। এই সরকারের ওপর মানুষের আর কোনো আস্থা নেই।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, এ সরকার যত দিন ক্ষমতায় থাকবে বাংলাদেশের তত বেশি ক্ষতি হবে। তারা ব্যস্ত বিদেশে বেগমপাড়া তৈরি করে দেশের সম্পদ পাচারে।

প্রবাসী অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য মো. হাওলাদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ।