রোববারও দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌরুট শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ ছিল। মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ঘাট থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোটে গাদাগাদি করে পদ্মা পাড়ি দিয়ে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া আসছেন কর্মস্থলমুখী যাত্রীরা। আর বাংলাবাজার ঘাটে ফেরিতে নদী পারাপারের অপেক্ষায় ছিল চার শতাধিক যান। এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে সহস্রাধিক যানবাহন। তীব্র গরমে এই ঘাট পার হতে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা।

প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-

ঘাট-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে চলাচলরত ৮৫টি লঞ্চ ও ১৫৫টি স্পিডবোটে রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকাগামী প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী পার হয়েছেন। যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে সকাল থেকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি নৌপথে ১০টি ফেরি চলাচল করছে।

সরেজমিন দেখা যায়, রোববার সকাল থেকেই বাংলাবাজার ঘাটে কর্মস্থলমুখী যাত্রীবাহী যানবাহনের ভিড় বাড়তে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে ঘাট এলাকায় ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। বাংলাবাজার ঘাট থেকে শিমুলিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি লঞ্চ ও স্পিডবোট ছিল যাত্রীতে পূর্ণ। তবে লোডমার্ক অনুযায়ী লঞ্চগুলো যাত্রী পারাপার করছে। ঘাট এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‌্যাবসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিইটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি থেকে আলাদা টিম ঘাটে পাঠানো হয়েছে। তবে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা যানবাহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন।

বাংলাবাজার ঘাট নৌ-পুলিশের পরিদর্শক মো. জাহানুর বলেন, আমরা স্পিডবোট নিয়ে পদ্মায় টহল অব্যাহত রেখেছি। যাত্রীর চাপ সামাল দিতে শিমুলিয়া থেকে খালি লঞ্চ, স্পিডবোট দ্রুত বাংলাবাজার ঘাটে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছি। ঘাটেও আমরা দায়িত্ব পালন করছি। অন্যদিকে শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় গণপরিবহন কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বাসে উঠতে হচ্ছে ঢাকাগামী যাত্রীদের। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষায় যাত্রীদের লাইন দীর্ঘ হয়।

শিমুলিয়া নদীবন্দরের পরিবহন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত লঞ্চের ৩২০টি ট্রিপ শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এতে ১ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী পারাপার হয়েছেন। এ ছাড়া স্পিডবোটে দিনভর ৪ হাজার যাত্রী পারাপার হন।

ঘাট কর্তৃপক্ষের দাবি, রোববার বিকেল পর্যন্ত যাত্রী ও পরিবহনের চাপ ছিল। এরপর থেকে ঘাটের অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাংলাবাজার ঘাটের ৩ নম্বর ফেরিঘাটে শতাধিক ছোট যান পারের অপেক্ষায় রয়েছে। ঘাট এলাকায় দুটি রো রো ফেরি রয়েছে। এতে অন্তত ৬০টি যানবাহন পার করা যাবে বলে বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা যায়।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, শনিবার বিকেলের পর থেকে ঘাটে চাপ অনেকটাই কমে এসেছে। আগের মতো যানবাহনও নেই। রাতেই ঘাটে আটকে পড়া অনেক যানবাহন পার করা হয়েছে। এখন যে চাপ আছে, তা বিকেলের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

এদিকে ঈদ শেষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষ। রোববার বিকেলেও নদী পারের অপেক্ষায় দৌলতদিয়া অংশে আটকে ছিল সহস্রাধিক যানবাহন।

যাত্রী ও ঘাট-সংশ্লিষ্টরা জানান, এই নৌরুট পার হতে গিয়ে গত তিন দিন ধরেই অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। গত দু'দিনের মতো রোববারও কর্মস্থলমুখী মানুষের চাপ থাকায় ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকেলেও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ পৌর জামতলা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার এলাকায় পারের অপেক্ষায় ছিল সহস্রাধিক যানবাহন। তীব্র গরমে যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠছে। গাড়িতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বসে থেকে কোনো উপায় না পেয়ে অনেকে ব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে হেঁটে ফেরিঘাটে এসে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন। এ ছাড়া আটকা পড়েছে ৩ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শিহাব উদ্দিন বলেন, এই নৌরুটে ২১টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ঈদের ছুটি শেষে যাত্রী ও যানবাহন আসছে স্রোতের মতো। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ছোট প্রাইভেটকার ও যাত্রীবাহী বাসকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। তার দাবি, রাতের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

  • প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন মুন্সীগঞ্জ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) ও শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি