অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে আসা একেকটি পিস্তল ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় কেনে এ দেশের অস্ত্র কারবারিরা। যশোর সীমান্ত এলাকায় হয় হাতবদল। এরপর নানা কৌশলে তা ঢাকায় আনা হয়। এখানে ছিনতাই, ডাকাতি, দস্যুতা, চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িতরা সেই পিস্তল কিনে নেয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকায়। অবৈধ অস্ত্রের এই নেটওয়ার্ক প্রতিবেশী দেশ ভারতেও বিস্তৃত। এ দেশের কারবারিরা সেখানকার সহযোগীদের আগেই চাহিদা জানিয়ে দেয়। সে অনুযায়ী চলে আসে অস্ত্র-গুলি।

সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছে অবৈধ অস্ত্রের কারবারে জড়িত রুহুল আমিন ওরফে রিপন। দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র-গুলির কারবারসহ নানা রকম অপরাধে জড়িত এই ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে ছয় মাস আগে তৎপরতা শুরু করে রাজধানীর পল্লবী থানা পুলিশ। তবে চতুর রিপনকে কিছুতেই নাগালে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে গত মাসে পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের ই-ব্লকের ২ নম্বর সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তার কাছে পাওয়া যায় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন ও সাদা কাগজে মোড়ানো ১০ রাউন্ড গুলি।

পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার রিপন নানা রকম অপরাধে জড়িত। জমি দখল ও পেশিশক্তি প্রদর্শনের মতো ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ আছে। এবার গ্রেপ্তারের সপ্তাহখানেক আগেও সে কারাগারে ছিল। জামিনে বেরিয়ে সে ফের অস্ত্র কারবারে নেমে পড়ে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত চারটি মামলা আছে।

অস্ত্রের কারবারে তার সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়ার পর অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। পুলিশ জানতে পারে, রিপন দীর্ঘদিন ধরে পল্লবীসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র ও গুলি সরবরাহ করে। মূলত সে যশোর থেকে বিদেশি অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করে আসছিল। যশোর থেকে ঢাকা রুটে অবৈধ অস্ত্র-গুলি সরবরাহের এই চক্রের অপর সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা জানান, যশোরে এক ব্যক্তির কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহের কথা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে রিপন। সেই ব্যক্তির সঙ্গে ভারতীয় অস্ত্র কারবারিদের যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে পেলে এই নেটওয়ার্কের অপর সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সহজ হবে। এ কারণে তাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে জোরেশোরে।

এদিকে, সীমান্তের যেসব অংশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত দুর্বল বা নজরদারি করা কঠিন- সেইসব অংশকেই অস্ত্র ও মাদক পাচারের জন্য বেছে নেয় চোরাকারবারিরা। যশোরসহ দেশের আরও কয়েকটি সীমান্তপথে অস্ত্র-মাদকের চালান দেশে ঢোকে বলে বিভিন্ন সময় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে এসব অস্ত্র ছড়িয়ে পড়ে ঢাকাসহ সারাদেশে। নানা রকম অপরাধে এসব অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়। গত ২৪ মার্চ রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি গুলিতে রিকশা আরোহী কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতিও নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন টিপুর গাড়িচালক মনির হোসেন মুন্না। এ ঘটনায় ব্যবহূত অবৈধ অস্ত্র এখনও উদ্ধার করা যায়নি।