বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেশের দায়দেনা পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকির পরামর্শ দিয়েছেন। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দায়দেনা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) চেয়ে বাড়ছে। আগামীতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে। ঋণ পরিশোধ নিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে পড়তে হতে পারে।

সরকারের দায়দেনা নিয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল আলাপচারিতায় তিনি এমন মত দেন। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ার চাপ এবং পাশ্ববর্তী দেশ শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও নেপালের আর্থিক সংকট বিবেচনায় দায়দেনা নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় ঋণের চাপ চাপলাতে তিনি সরকারকে তিনটি বার্তা দেন। প্রথমত- কর আহরণ বাড়ানোর মাধ্যমে আর্থিক সংহতিকরণ। দ্বিতীয়ত- বহিস্থ খাতের বর্তমান চাপ মোকাবিলায় সুরক্ষা দেওয়া এবং দায়দেনা পরিস্থিতির সামগ্রিক, স্বচ্ছ এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিককালে দায়দেনা নিয়ে শ্রীলঙ্কা বড় সংকটে পড়েছে। এর পরিণতিতে সেখানে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান ও নেপালেও প্রায় একই অবস্থা চলছে। বাংলাদেশকে বিষয়টি সতর্ক পর্যালোচনার মধ্যে রাখতে হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে ড. দেবপ্রিয় বলেন, তিনি বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা করতে চান না। বরং শ্রীলঙ্কা থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশকে তার দায়দেনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখতে হবে এবং সরকারের ইতোমধ্যে যেসমস্ত নীতি বা আইন রয়েছে, সে অনুযায়ী সঠিক বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ড. দেবপ্রিয় ঋণ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে পাঁচটি ঝুঁকির কথা বলেন। এর একটি হলো বিনিময় হারের ঝুঁকি। বাংলাদেশে এ ঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদের হারের ঝুঁকি বাড়ছে। বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হারের ঝুঁকিও কিছুটা বাড়ছে। অন্যদিকে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। আর প্রকল্প থেকে অর্থনৈতিক লাভ কতটুকু হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি।

ঋণ পরিশোধের বর্তমান স্বস্তিদায়ক অবস্থাকে 'সবুজ' আখ্যা দিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে তা 'হলুদ' হতে পারে এবং অস্বস্তি তৈরি হতে পারে এমন মন্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, কিছু প্রকল্পে উচ্চ মূল্যের ঋণ পরিশোধের সময়সূচি এগিয়ে আসছে। বিশ্বব্যাংক, জাপানসহ প্রথাগতভাবে যারা কম সুদে ঋণ দিতো, তারাও এখন তুলনামূলক বেশি সুদ নিচ্ছে। সুতরাং স্বস্তির জায়গাটা কমে আসছে।