রংপুর বিভাগে পেট্রোল-অকটেনের সংকট এখনও কাটেনি। অনেক পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তবে তেল সংকট দ্রুত কেটে যাওয়ার কথা জানিয়েছে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

রংপুর পেট্রোল পাম্প মালিক সূত্রে জানা যায়, বিভাগের আট জেলায় রয়েছে ৩৫৩টি পেট্রোল পাম্প। এসব পাম্পে রংপুর, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে প্রতি মাসে ১০ লাখ ২০ হাজার লিটার পেট্রোল-অকটেন সরবরাহ করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে তেল আসে এসব ডিপোতে। সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজির দাম বাড়ার কারণে গ্যাসচালিত গাড়িগুলো পেট্রোলের দিকে ঝুঁকেছে। ঈদের কারণে একদিকে সরবরাহ না থাকা, অন্যদিকে পেট্রোল-অকটেনের চাহিদা বাড়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

রংপুর নগরীতে সোমবার কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ পাম্পে পেট্রোল-অকটেনের সংকট। চাহিদার চেয়ে অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় দ্রুত শেষ হচ্ছে তেল। জ্বালানি নিতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন অনেক ক্রেতা। অনেক পাম্পের শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন।

নগরীর শাপলা ইউনিক পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা জুম্মাপাড়ার পারভেজ রহমান বলেন, অকটেন নিতে এসে পাম্প থেকে ঘুরে যাচ্ছি। সয়াবিন তেলের পর এবার জ্বালানি তেলের সংকট দেখা যাচ্ছে। কী কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে নাকি পাম্প মালিকরা কৃত্রিম সংকট দেখাচ্ছে, এ ব্যাপারে প্রশাসনের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।

নগরীর শালবন সিটি করপোরেশন স্কুলের শিক্ষক শাহীন ইসলাম বলেন, পরিবহনের ওপর দেশের অর্থনীতির অনেকাংশ নির্ভর করে। সেই পরিবহন যদি না চলে তবে কীভাবে মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। সরকারকে দ্রুত পেট্রোল-অকটেনের সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নগরীর শাপলা এলাকার রহমান পেট্রোল পাম্পের স্বত্বাধিকারী এবিএম নুরুস শামস বলেন, ঈদে রেলের মাধ্যমে তেল না আসা ও অধিক পরিমাণ যানবাহন চলাচল করায় পেট্রোল-অকটেনের ওপর চাপ পড়েছে। তেল নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা দু-তিন দিনের মধ্যেই সমাধান হবে।

রংপুর পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সোহবার চৌধুরী টিটু বলেন, গতকাল থেকে কিছু কোম্পানি জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু করেছে। উত্তরবঙ্গে প্রতি সপ্তাহে দুটি র‌্যাকে করে তেল আসে। তিনটি র‌্যাকে যদি জ্বালানি তেল আনা যায়, তাহলে কৃত্রিম সংকট অনেকটাই নিরসন হবে।