সরকারি চাকরির দাবিতে ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে সোমবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মাস্টার্সের ছাত্র দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শাহীন আলম। তিনি এ এলাকার সন্তান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে একটি হ্যান্ডমাইক নিয়ে তিনি তার আবেদন জানাচ্ছেন। তার ভাষ্য, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির আবেদন করছেন। কিন্তু প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তাকে কেউ চাকরি দিচ্ছেন না। তার প্রশ্ন, চাকরি যদি নাই হবে, তাহলে কেন সরকার তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ দিল?

শাহীনের রয়েছে এসএসসি থেকে অনার্স পর্যন্ত ফলাফলের ধারাবাহিক সফলতা। অদম্য এই যুবকের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার আযমপুর ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে। দরিদ্র আব্দুল কাদেরের দুই সন্তানের মধ্যে তিনি ছোট। পিতার টানাপোড়েনের সংসারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী। শাহীন ২০১৩ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৪ ও ২০১৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪ দশমিক ৫৮ পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

অনশনে তাকে সমর্থন ও তার দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে অনেক পথচারী সহমর্মিতা জানাচ্ছেন। সবাই শাহীন আলমের একটি সরকারি চাকরির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছেন। শাহীন আলম জানিয়েছেন, চাকরি না হওয়া পর্যন্ত তিনি আমরণ অনশন চালিয়ে যাবেন। এতে যদি তার মৃত্যু হয়, তবুও তিনি পিছপা হবেন না।

শাহীন আলম লেখাপড়ার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং তিনি নিজ উদ্যোগে ভারত ও বাংলাদেশের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংবিধানে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা রয়েছে- প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে বঞ্চিত বা তার প্রতি বৈষম্য করা বা তাকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। বিভিন্ন দপ্তরে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও অবহেলা ও অর্থের কাছে হার মেনেছেন তিনি। তাই তিনি আমরণ অনশন শুরু করেছেন।




বিষয় : চাকরির দাবিতে আমরণ অনশন

মন্তব্য করুন