নতুন সড়ক নির্মাণ নিরুৎসাহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘নতুন সড়ক নির্মাণে এবার ব্রেক দিন।’ বরং সড়ক সুরক্ষা এখন বড় কাজ। নির্মাণের চেয়ে রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশস্তকরণে গুরুত্ব দিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে নতুন সড়ক সম্পর্কিত কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদন আলোচনায় এ বার্তা দেন সরকারপ্রধান। অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশে সড়কের ঘনত্ব বেশি। এ কারণে নতুন সড়ক নির্মাণ নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা এবং একনেকের অন্যান্য বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেকের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন তিনি। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ১১ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে তিনটিই সংশোধিত প্রকল্প। এবার একটি প্রকল্প তৃতীয়বারের মতো সংশোধিত হলো। সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন অনুৎসাহিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন রয়েছে। আজ অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ৩ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। বিদেশি ঋণ ১ হাজার ২২০ কোটি টাকা। বাকি ৬৪২ কোটি টাকা বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব জোগান।

প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য নির্দেশনার বিষয়ে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানন্ত্রী। এ খাতে প্রশিক্ষণ আরও বাড়ানো এবং মানবসম্পদ গড়ে তোলার কথা বলেছেন তিনি। এম এ মান্নান বলেন, করোনা মোকাবিলা ব্যবস্থাপনায় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১২১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতকেও পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এ সাফল্যের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও দেশের পরিশ্রমী জনতাকে অভিনন্দন জানিয়েছে একনেক।

অনুমোদিত ১১ প্রকল্প: আজ একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে নেসকো এলাকায় স্মার্ট ডিসট্রিবিউশন সিস্টেম প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪১ কোটি টাকা। নতুন এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে নদার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড। ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন প্রকল্পের মেয়াদ আবারও বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে প্রকল্পটি তৃতীয়বারের মতো সংশোধিত হলো। সব মিলিয়ে এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এলওজিআইসি প্রকল্পটির সংশোধনও অনুমোদন দিয়েছে একনেক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

অনুমোদিত নুতন প্রকল্পের মধ্যে যশোরে শেখ জহুরুল হক পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৯ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের বাপবিবো ৩৩/১১ কেভির উপকেন্দ্রের আধুনিকায়ন প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮০ কোটি টাকা। মিঠামইন, ইটনা, অষ্টগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলকায় ধলেশ্বেরী নদীর নাব্য উন্নয়ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিআইডব্লিউটিও। ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪২ কোটি টাকা। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অস্ত্রাগার নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। দিনাজপুরে সড়ক বিভাগের বিভিন্ন অংশের সড়ক, কালভার্ট ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৪ কোটি টাকা। শেরপুরে কানাসাখোলা থেকে ময়মনসিংহের রহমতপুর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে ১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ইনকিউবেশন সেন্টার প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ১০০ উপজেলায় ১টি করে ট্যাকনিক্যাল স্কুল কলেজ স্থাপন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৫ কোটি টাকা। এ নিয়ে প্রকল্পটি দ্বিতীয়বার সংশোধন হলো।