মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিভিন্ন অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রবেশপত্রে উত্তর লিখে এনে এক যুবক আটক হয়েছেন। 

শুক্রবার রাজধানীর ৬১টি কেন্দ্রে ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালীন ইডেন কলেজ কেন্দ্র থেকে সুমন জমাদ্দার নামে ওই পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নের উত্তরপত্রসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) আটক করে। এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।

ডিবি সূত্র জানায়, আটক সুমন জমাদ্দারকে শনিবার আদালতে হাজির করে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে ওই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের উত্তর সরবরাহে জড়িত চক্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে।

ডিবি জানায়, ওই নিয়োগ পরীক্ষায় ৫১৩টি পদের বিপরীতে এক লাখ ৮৩ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন। চাকরি প্রার্থীরা শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এক ঘণ্টায় এমসিকিউ পদ্ধতিতে ৭০টি প্রশ্নের উত্তর দেন। তবে আগে থেকেই গোয়েন্দা নজরদারি থাকায় ডিবির তেজগাঁও বিভাগের একটি দল ইডেন কলেজ কেন্দ্রে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখে। পরীক্ষা চলাকালীন ২ নম্বর ভবনের ২২৩৭ নম্বর কক্ষে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী সুমন জমাদ্দারকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ওই সময়ে তার প্রবেশপত্রের পেছনে ছোট ছোট করে ৭০টি প্রশ্নেরই উত্তর লেখা ছিল।

অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, পরীক্ষাথী সুমন জোমাদ্দারের কাছ থেকে দুটি প্রবেশপত্র জব্দ করা হয়েছে। দুটির উল্টোপাশেই ৭০টি প্রশ্নের উত্তর লেখা পাওয়া গেছে। যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, প্রত্যেকটি উত্তর হুবহু মিল রয়েছে। তার কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন যাচাই করে দেখা গেছে, পরীক্ষার আগে দুপুর দুইটা ১৮ মিনেটে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তার মোবাইলে উত্তরগুলো এসেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সুমন জানিয়েছেন, পটুয়াখালীর সাইফুল ও টাঙ্গাইলের খোকনের মাধ্যমে তিনি উত্তরগুলো পেয়েছেন।

ওই ঘটনায় ইডেন কলেজের প্রধান সহকারী মো. আব্দুল খালেক বাদী হয়ে লালবাগ থানায় ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনের ধারায় সুমন, পলাতক সাইফুল ও খোকনসহ অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

বাদী আব্দুল খালেক সমকালকে বলেন, ওই পরীক্ষার্থীকে ২ নম্বর ভবনের ২২৩৭ নম্বর কক্ষ থেকে হাতেনাতে ধরেছেন কেন্দ্রে ডিউটিরত শিক্ষকরা। তখন সে প্রবেশপত্রের উল্টোপাশে লিখে আনা উত্তর দেখে বৃত্ত ভরাট করছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তিনি মামলার বাদী হয়েছেন।

ডিবির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ওয়াহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ওই নিয়োগ পরীক্ষায় আগেই লিখে আনা উত্তরসহ এক পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।

ওই পরীক্ষার নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাউশির পরিচালক (প্রশাসন) শাহেদুল খবির চৌধুরী। এই ব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে শনিবার তাকে কয়েক দফা ফোন দেওয়া হয়। তবে ফোন রিসিভ হয়নি। পরে তার বক্তব্য জানতে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তাতে সাড়া মেলেনি।

অবশ্য নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও মাউসির উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস সমকালকে বলেন, তিনি প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে শুনেছেন, তবে নিশ্চিত নন।