- বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি হিসেবে সম্প্রতি দায়িত্ব নিলেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও হার্ডওয়্যার খাতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে শুরুতে কোন কাজে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?

-- আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পরই আমাদের সামনে বাজেট চলে এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে বাজেট নিয়ে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। আমরা 'মেক ইন বাংলাদেশ'-এর সঙ্গে থাকতে চাই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কিছু বাধা আছে, ঝামেলা আছে। এটি সমাধান করা জরুরি। দেশে পণ্য তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এসব যন্ত্রাংশের আমদানি ব্যয় অনেক; বিশেষ করে বাড়তি ট্যাক্স-ভ্যাট আরোপ থাকায় দেশে পণ্য তৈরি খুব একটা গতি পাচ্ছে না। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এ ধরনের কর কমানোর জন্য রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি ২০২৪ সাল নাগাদ যে আইসিটি খাতে ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে; সেটি যেন অব্যাহত থাকে- এর নিশ্চয়তা চাই আমরা। ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর কাঠামো যেভাবে আছে সেভাবেই যেন থাকে।

- আপনি এর আগে যখন বিসিএসের সভাপতি ছিলেন; প্রযুক্তি পণ্যের খুচরা মূল্য নির্ধারণে কাজ করেছিলেন। সেটি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
-- আপনি ঠিকই বলেছেন। আমরা হার্ডওয়্যার পণ্যে এখনও সব জায়গায় খুচরা বিক্রয় মূল্য (এমআরপি) নির্দিষ্ট করতে পারিনি। এটি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। আমরা চাই, একই পণ্য যেন একই দামে সব দোকানে বিক্রি হয়। আমি যখন এর আগে বিসিএস সভাপতি ছিলাম, তখন এটি নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারিনি। এবার আমরা এমআরপি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চাই। এখন কিন্তু প্রতিটা পণ্যের গায়ে বিক্রয় মূল্য থাকে, যেন কোনো ক্রেতা প্রতারিত না হয়; ক্রেতাকে দাম নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে না হয়। এটি নিয়ে আমরা ভোক্তা অধিকারের সঙ্গেও কাজ করব।

- সামগ্রিক ওয়ারেন্টি পলিসি নিয়েও কাজ করবেন বলে নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
-- হ্যাঁ, আমরা ওয়ারেন্টি পলিসি নিয়েও কাজ করছি। আমরা কয়েক বছর আগে বিসিএস থেকে একটি সার্বজনীন ওয়ারেন্টি পলিসি করেছিলাম। কিন্তু সেটি সেভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এটিকে আরও যুগোপযোগী করে ক্রেতাবান্ধব করতে চাই। নামকাওয়াস্তে ওয়ারেন্টি থাকবে, তা নয়। ক্রেতা যেন সত্যিকারের ওয়ারেন্টি সুবিধা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে চাই। এটি নিয়েও আমরা ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করব। অনেক সময় পণ্য নির্মাতা ওয়ারেন্টি নিয়ে ঝামেলা করে। এই ঝামেলায় পণ্যের পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে শেষমেশ ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবেশকরা অনেক সময় বলে, পণ্য উৎপাদক এ সমস্যার জন্য ওয়ারেন্টি থাকলেও দিতে চাচ্ছে না। দেখা যায়, ক্রেতা সময়মতো পণ্যের ওয়ারেন্টি সুবিধা পায় না। এ সমস্যা সমাধানে কাজ করব। ক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশবান্ধব ওয়ারেন্টি পলিসি করার চ্যালেঞ্জ নিতে চাই।

- 'মেক ইন বাংলাদেশ' নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
-- দেশে প্রযুক্তি পণ্য তৈরি করে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের পণ্য রপ্তানি হবে, সেই স্বপ্ন আমরা দেখি। সরকারের পাশাপাশি বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে বিসিএসও একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। দেশে শতাধিক প্রতিষ্ঠান এখন পণ্য তৈরি ও সংযোজন (অ্যাসেম্বল) করছে। কেউ স্মার্টফোন, মনিটর করছে; কেউ ল্যাপটপ, কেউ পিসি, কেউ টিভি, সিকিউরিটি ক্যামেরা তৈরি কিংবা সংযোজন করছে। এক্ষেত্রে এসব পণ্য তৈরি কিংবা সংযোজনে যন্ত্রাংশ (এক্সেসরিজ) আমদানি সহজ করা জরুরি। এই এক্সেসরিজ আমদানিতে নানা রকম শর্ত আরোপ করা হয়। এ শর্তের বেড়াজালে অনেকের জন্য পণ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানি কঠিন হয়ে পড়ে। এখানে পলিসি কাঠামো পরিবর্তন জরুরি। এ ধরনের শর্তের কারণে অনেক কোম্পানি বিশেষ করে যারা একটু ছোট; যাদের হাইটেক পার্কে কারখানা নেই, তারা ঝামেলায় পড়ে। এতে আমরা যে দেশে পণ্য তৈরি করে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি, সেটি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিশেষ করে মেড ইন বাংলাদেশ বাস্তবায়নে এ বাধা অপসারণ জরুরি।