জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি বেড়েছে। এই কর্মসূচির নামে জ্বালাও-পোড়াও বা যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে তৎপর থাকে পুলিশ। নির্বাচনের আগে এই ধরনের নাশকতা যাতে কেউ করতে না পারে, সে বিষয়ে রাজধানীর মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা সেই নির্দেশনা পেয়েছেন।

সোমবার এক বৈঠক থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম আগুন সন্ত্রাস বা নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

ঢাকার রাজারবাগের পুলিশ অডিটোরিয়ামে ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা থেকে এ নির্দেশনা আসে। সেখানে গত এপ্রিল মাসে রাজধানীতে সংঘটিত নানা অপরাধের পর্যালোচনা করেন পুলিশের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নাশকতা হলে তা ঠেকাতে নানা কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।

ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ওই সভায় ডিএমপি সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের ডিসি, এডিসি, রাজধানীর ৫০ থানার ওসি এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা চালায় বিএনপি ও দলটির শরীকরা। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেও একইভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নাশকতা করা হয়। তবে বরাবরই পুলিশ তা প্রতিরোধ করে আসছে। অবশ্য গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে এ ধরনের জ্বালাও-পোড়াও হচ্ছে না। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, পুলিশের বাধায় তারা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারছে না।


অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি বেড়েছে। ঢাকা মহানগর এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যাতে কেউ কোনো আগুন সন্ত্রাস বা নাশকতা করতে না পারে সেদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকাতে হবে। এসময় রমজান মাস ও ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ ও মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ক্রাইম বিভাগ ও ট্রাফিক বিভাগকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশও দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলার যাতে অবনতি না ঘটে সে দিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ঢাকা শহরের অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে আরও নিরলসভাবে কাজ করতে হবে।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় গত এপ্রিলে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানসহ ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার। গত মাসে আটটি ক্রাইম বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে তেজগাঁও বিভাগ ও শ্রেষ্ঠ থানা হয়েছে রমনা থানা। নয়টি গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে গুলশান বিভাগ। আটটি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে লালবাগ ট্রাফিক বিভাগ। এছাড়াও ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পিআর বিভাগসহ সাতটি বিভিন্ন বিভাগ ও বিভিন্ন পদ মর্যাদার ১০২ জন কর্মকর্তা এবং ফোর্সকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) কৃষ্ণ পদ রায়, অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) একেএম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামানসহ যুগ্ম কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।