মানিকগঞ্জে মাইক্রোবাস চালক জাহাঙ্গীর আলম হত্যা মামলায় দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ৫০ হাজার টাকা ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত চার আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে ছয়জন আসামির মধ্যে তিনজনের উপস্থিতিতে এ রায় দেন মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক উৎপল ভট্টাচার্য্য।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার চরডাঙ্গা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ওমর হোসেন সাইফুল , একই উপজেলার বাবনা গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আরিফুজ্জামান সজিব। তারা দুইজনই পলাতক রয়েছেন।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন- টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার খাসঘুনী পাড়া গ্রামের  রুস্তম আলীর ছেলে মো: আলী সীমান্ত (পলাতক), একই উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে আজীম খান, শালীয়ারা গ্রামের শফিকুল আলেমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার মাদারপুর গ্রামের নান্নু মিয়ার ছেলে ফরহাদ হোসেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৮ জানুয়ারি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ঘোষবের গ্রামের  মোকলেসুর রহমানের ছেলে ও মাইক্রোবাসচালক জাহাঙ্গীর আলমকে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুসন্ডা এলাকায় শ্বাসরোধে হত্যা করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এ ঘটনার রাতে ঘিওর থানার এসআই লুৎফর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্ত করে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঘিওর থানার এসআই এনামুল হক চৌধুরী ২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ৬ জনের নামে আদালতে  অভিযোগপত্র (চার্জশিট ) দাখিল করেন। মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি মথুর নাথ সরকার ও আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জহিরুল ইসলাম, আহসান হাবীব ও হুমায়ূন কবির।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সন্তোষ্টি প্রকাশ করলেও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপীল করবেন বলে জানান।