পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বিদ্যুতের বর্তমান পাইকারি দাম ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ১৭ পয়সা। একে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৫৮ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে পিডিবি। 

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কমিশনের টেকনিক্যাল কমিটি ভর্তুকি ছাড়া এক ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৮ টাকা ১৬ পয়সা করার মতামত দিয়েছে।

আজ বুধবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে গণশুনানি শুরু হয়েছে। গণশুনানি গ্রহণ করছে বিইআরসি। 

পিডিবি দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছে তা বর্তমান উৎপাদন খরচ বিবেচনায়। এরপর গ্যাসের দাম ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা ১৪ পয়সা এবং গ্যাসের দাম ১২৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা ২৭ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে পিডিবি বলেছে, চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় জ্বালানি খরচ ছিল ২ টাকা ১৩ পয়সা, ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ টাকা ১৬ পয়সায়। এখন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, কয়লার মূসক বৃদ্ধির কারণে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি খরচ আরও বেড়েছে দাঁড়াচ্ছে ৪.২৪ টাকা। এর সঙ্গে আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ রয়েছে। তাই পাইকারি দাম না বাড়লে ২০২২ সালে ৩০ হাজার ২৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে পিডিবিকে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে শুনানিতে উপস্থিত আছেন সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী, বজলুর রহমান, মোহাম্মদ আবু ফারুক ও মো. কামরুজ্জান৷

কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, বিদ্যুতের পাইকারি দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা প্রমাণের দায়িত্ব পিডিবির। পৃথিবীব্যাপী একটি অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। একটা মহামারি শেষ না হতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সর্বত্র প্রভাব পড়েছে। আমরাও তার বাইরে না। 

চেয়ারম্যান বলেন, প্রশ্ন উঠতে পারে যে, গ্যাসের দামের গণশুনানির ঘোষণা না দিয়ে কেন আমরা বিদ্যুতের দামের শুনানি নিচ্ছি? আপনারা জানেন, গ্যসের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সরকারের পলিসির বিষয় থাকে, সেটি দালিলিকভাবে প্রমাণের বিষয় থাকে। সেটার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। শেষ হলে গ্যাসের দামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। কমিশন তার আইনি প্রক্রিয়াগত কারণে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি করছে। 

বিইআরসি সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুতের পাইকারি দর ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ১৭ পয়সা নির্ধারণ করে। বিদ্যুতের একক পাইকারি বিক্রেতা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। নিজেরা উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি ও বেসরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনছে তারা। পাইকারি দরে বিক্রি করে আসছে পাঁচটি বিতরণ কোম্পানির কাছে।