ভোররাত থেকে কালবৈশাখীর পর ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। তীব্র দাবদাহের পর বৃষ্টিতে প্রাণ জুড়ালেও কালবৈশাখী ঝড়ের দাপটে ক্ষতি হয়েছে বিস্তীর্ণ জনপদে। টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ডুবে গেছে সড়ক।

কালবৈশাখীর দাপট দেখেছে রাজধানীবাসীও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা সমকালকে জানান, জলাবদ্ধতার কথা।

শনিবার ভোররাত থেকে আকাশ মেঘলা হতে থাকে। ভোর ৬টা নাগাদ শুরু হয় বাতাস। ধীরে ধীরে এর গতি বাড়ে। সেই সঙ্গে নামে মুষলধারে বৃষ্টি।

রাজধানীর মিরপুর ১০ ও ১৩ নম্বর, মধ্য বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্কর এলাকায় সড়ক পুরোপুরি পানিতে ডুবে গেছে। সেখান দিয়ে যানবাহনগুলোকে ধীরে ধীরে চলতে হয়েছে। মিরপুর-১৩ নম্বরে বনফুল আদিবাসী গ্রিন হার্ট কলেজ ও স্কলাস্টিকার সামনের সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা যায়।

ছুটির দিন ও ভোর থেকে বৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীর রাস্তায় সেভাবে যানবাহন ছিল না। ফলে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের ছাতা হাতে- রেইনকোট পরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। খানিকটা ভোগান্তিরও শিকার হন তারাঅ। কেউ কেউ জলাবদ্ধ সড়ক ধরে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, মর্তবান উপসাগর ও তৎসংলগ্ন মিয়ানমারে সৃষ্টি লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরবর্তী সময়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গিয়ে মিয়ানমার উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। অপর একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়-রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থানে এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বিজলী চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। 

সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী তিন দিনে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র। এ সময় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয় নীলফামারীর ডিমলায় ৬৫ মিলিমিটার।