ভুয়া বিচারপতি পরিচয়ে পুলিশ প্রটোকল নিয়ে চাঁদপুরে ধরা খাওয়া বিপ্লব প্রধানীয়ার উদ্দেশ্য ছিল নিজ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আরও প্রতারণার ক্ষেত্র তৈরি করা। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই ওইদিন গাড়ি নিয়ে ভিআইপি প্রটোকলে এলাকায় যান, যেন স্থানীয়রা বিচারপতি ভেবে তার কাছে আসে বিভিন্ন তদবির নিয়ে।

পুলিশ বলছে, এলাকায় যদি তিনি নিজেকে বিচারপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তাহলে স্থানীয় লোকজন তার কাছে সরকারি-বেসরকারি অফিসের বিভিন্ন তদবির নিয়ে আসবে এবং তিনি প্রতারণা করার সুযোগ পাবেন- এমনটিই তার উদ্দেশ্য ছিল।

ধরা পরার পর পুলিশকে বিপ্লব জানান, বিগত পাঁচ বছর ধরে রেন্ট-এ কার থেকে দামি গাড়ি ভাড়া নিয়ে বড় বড় শহরে বিচারপতি পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন বিপ্লব। এরই ধারাবাহিকতায় এবার নিজ এলাকায় প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। এলাকার মানুষের কাছে বিচারপতি হলে নানা তদবির আসবে এবং এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেবেন।

ভুয়া বিচারপতি বিপ্লব দুই মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। এবার আরও একটি মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দুপরে তাকে চাঁদপুরে আদালতে পাঠানো হয়।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের কলেজ গেটে তার একটি ওয়ার্কসপ ছিল ২০১৩ সালে। তখন স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ঋণদান সংস্থা ও সমিতির টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান। অর্থ জালিয়াতির দুই মামলায় তার সাজা হয় এবং অপর একটি মামলায় তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বর্তমানে ঢাকার রায়ের বাজার এলাকায় তার একটি ওয়ার্কসপ ব্যবসা রয়েছে বলেও জানা গেছে।


মামলার বাদী মতলব দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেয়ে তিনি ভুয়া বিচারপতি বিপ্লবকে বাড়ি পৌঁছে দিতে যান। তখন বিপ্লবের আচরণে তার সন্দেহ সৃষ্টি হয়। ডিএসবির মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশকে অবহিত না করা, বিপ্লবের ব্যবহৃত গাড়িটি সরকারি না হওয়া, গাড়িতে পতাকা না থাকা- এসব কারণে তিনি বিপ্লবকে চ্যালেঞ্জ করেন। এতে বিপ্লব আটকে যান। পরে রুহুল আমিন তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। তার ব্যবহৃত টয়োটা করলা গাড়িটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

শুক্রবার ঢাকা থেকে মতলবে আসার পথে জাতীয় সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে নিজেকে বিচারপতি পরিচয় দিয়ে পুলিশ প্রটোকল চান বিপ্লব। পরে জাতীয় সেবা কেন্দ্র থেকে পুলিশ কন্ট্রোল রুম কুমিল্লা জোনকে অবহিত করা হয়। কুমিল্লা জোন চাঁদপুর কন্ট্রোলকে অবহিত করে। পরে পুলিশ তাকে প্রটোকল দিয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলার উত্তর নলুয়া গ্রামে পৌঁছে দেয়। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়।