নতুন জাতীয় বেতন স্কেল না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য ৬০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীরা।

শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারী সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির মহাসচিব মো. ছালজার রহমান বলেন, ২০১৫ সালে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হয়। গত সাত বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা ব্যয়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য প্রতিনিয়ত অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সীমিত আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাপন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় নতুন জাতীয় বেতন স্কেল দেওয়া অত্যাবশ্যক।

সংবাদ সম্মেলনে ছালজার রহমান দাবি করেন, বেতনের ১০০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, দৈনিক ৫০ টাকা যাতায়াত ভাতা, দৈনিক ১০০ টাকা টিফিন ভাতা, সন্তানের শিক্ষা ভাতা ন্যূনতম ২ হাজার টাকা, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল ভাতা, ১০০ শতাংশ পেনশন, ১:৪০০ আনুপাতিক হারে গ্রাচ্যুয়িটি, চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছর করা, সমুদয় পাওনা ছুটির বেতন দিতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেছেন, বৈষম্য নিরসন করে সচিবালয়বহির্ভূত দপ্তর প্রতিষ্ঠানের প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী ও সমপদের, সমমানের কর্মচারীদের সচিবালয়ের অনুরূপ দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বেতন স্কেল দিতে হবে। সচিবালয়ের স্টেনোগ্রাফারদের অনুরূপ সচিবালয়বহির্ভূত দপ্তর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্টেনোগ্রাফার ও স্টেনোটাইপিস্টদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও বেতন স্কেল দিতে হবে।

একইসঙ্গে দাবি আদায়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীরা। এ লক্ষ্যে ২৪ মে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান, ২৬ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক বিভাগ ও জেলাগুলোতে সমাবেশ করা হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ১১ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান সমিতির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান, কার্যকরী সভাপতি নূরুন্নবী, রায়হান চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।