ভেড়ার মাংসে এক ধরনের গন্ধ এবং অতিরিক্ত চর্বির কারণে দেশে অনেকে এটি পছন্দ করেন না। তবে প্রায় দুই দশকের গবেষণায় ভেড়ার মাংসের মান উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশু পালন অনুষদের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন। পশুপুষ্টি বিভাগের এ শিক্ষক তার গবেষণায় ভেড়ার মাংসে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধকরণেও সফলতা পেয়েছেন। গবেষণায় মাংসে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭ শতাংশ।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের সম্মেলন কক্ষে ‘অধিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ভেড়ার মাংস' শীর্ষক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য জানান গবেষক মোহাম্মদ আল-মামুন।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ভেড়ার মাংসের জনপ্রিয়তা থাকলেও এক ধরনের অস্বাভাবিক গন্ধের কারণে বাংলাদেশে এর প্রতি মানুষের অরুচি দেখা যায়। এ ছাড়া ঘন শক্তপেশি ও অধিক চর্বির জন্য বেশিরভাগ মানুষ ভেড়ার মাংস পছন্দ করেন না। মাংসে এই অস্বাভাবিক গন্ধ দূর করতে এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বাড়াতে ভেড়ার খাদ্যতালিকায় তিনি ঔষধি গুণসম্পন্ন প্লানটেইন ঘাস ও রসুনের পাতা ব্যবহার করেছেন। এতে মাংসের স্বাদ ও গন্ধে যেমন পরিবর্তন এসেছে, গুণগত মানও বেড়েছে। এ ছাড়া ঘাস থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ভেড়ার বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।

ড. মামুন জানান, প্লানটেইন ঘাস ও রসুনের পাতা ব্যবহারের ফলে ভেড়ার ওজন ২০ থেকে ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাংসে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। পাশাপাশি ভেড়ার মাংসের চর্বি ও পেলভিক চর্বি যথাক্রমে ২৪ শতাংশ ও ৫৬ শতাংশ কমেছে। মাংসে ১৫ শতাংশ কোলেস্টরল কমার পাশাপাশি প্রায় ৩০ শতাংশ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া ভেড়ার বিপাকতন্ত্রে তৈরি হওয়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর মিথেন ১১ থেকে ১৪ শতাংশ কম নির্গত হয়েছে।

কর্মশালায় পশুপুষ্টি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. রাখী চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম। অতিথি হিসেবে ছিলেন কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন ২০০৪ সালে জাপানের ইয়াতো ইউনিভার্সিটিতে প্লানটেইন ঘাসের ওপর গবেষণা শুরু করেন। গবেষণায় সাফল্যের জন্য তিনি সেখানে প্রেসিডেন্ট ও ডিন আওয়ার্ডে ভূষিত হন।