মাস্ক ক্রয়ে দুর্নীতির মামলায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক প্রশাসক সুলতান-উল-আবেদিন মোল্লাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত-২।

সুলতান-উল-আবেদিন মোল্লা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে জামিন আবেদন করলে রোববার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত-২ এর বিচারক শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে সুলতান-উল-আবেদিন মোল্লাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

একই মামলায় ডেল্টা লাইফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মঞ্জুরে মাওলাসহ তিন কর্মকর্তা জামিন আবেদন করেছিলেন। কিন্তু রোববার সুলতান-উল-আবেদিন মোল্লাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের কথা জেনে তারা আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যান। এরপর আদালত মঞ্জুরে মাওলাসহ ওই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে করোনার প্রকোপের মধ্যে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রশাসক থাকা কালে টেন্ডার ছাড়া ৫০ টাকা দরে ২ লাখ ১৫ হাজার মাস্ক ক্রয়ের আদেশ দিয়েছিলেন সুলতান-উল-আবেদিন মোল্লা। কিন্তু ডেল্টা লাইফের ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী ৮ লাখ টাকা বা তার তার বেশি মূল্যের কোনো পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে টেন্ডার আহ্বান করা বাধ্যতামূলক। অথচ সুলতান-উল-আবেদিন মোল্লা টেন্ডার ছাড়াই ওই ক্রয় আদেশ দেন। এই ঘটনায় ডেল্টা লাইফের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের এক কর্মকর্তা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে এর তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে পিবিআই তদন্ত করার সময় জানতে পারে ২ লাখ ১৫ হাজার মাস্ক কেনার কথা বললেও মাত্র ১৫ হাজারের বেশি মাস্ক ক্রয়ের কোনো কাগজপত্র অভিযুক্তরা দেখাতে পারেননি।

এর আগে ডেল্টা লাইফের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ এন বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ পরিচালনা পর্ষদকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্থগিত করেছিল। তারপর সুলতান-উল-আবেদিন মোল্লাকে প্রশাসক নিয়োগ করেছিল আইডিআরএ। এর তিন মাসের মধ্যেই সুলতান-উল-আবেদিন মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মামলা করেন সাবেক পরিচালনা পর্ষদের এক কর্মকর্তা।