টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন ৩০ মে পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। 

এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিল অনুমতি ) আবেদন দায়ের করতে বলা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন। আদালতে মুক্তির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালত সহিদুর রহমান মুক্তিকে জামিন দেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল করা হয়। এরপর হাইকোর্টে ২৭ এপ্রিল মুক্তিকে জামিন দেন হাইকোর্ট। পরদিন ওই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করা হলে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি নিহত হন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদ। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। 

এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। 

আদালতে এই দুই আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যার সঙ্গে জড়িত সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা এবং তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। পরে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। 

এরপর ১৪ জনের বিরুদ্ধে ২০১৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। 

আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিন পেয়ে মুক্ত আছেন। তাদের অন্য দুই ভাই আত্মগোপনে রয়েছেন।