টানা ২৬ বছর শীর্ষ পদে থাকা রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের 'দাদা' বলে খ্যাত দীপংকর তালুকদার এমপি চতুর্থবারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলটির সভাপতি হয়েছেন। আর কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে ফের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন হাজী মুছা মাতব্বর।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। দলটির সবশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালে ২৮ ডিসেম্বর। পরে ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর সম্মেলনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলেও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকতে না পারায় তা স্থগিত হয়ে যায়। পরে করোনা মহামারির কারণে সম্মেলন আর হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ সাড়ে ৯ বছর পর আজ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছিলেন উৎফুল্ল।

এদিকে সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন দীপংকর তালুকদার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নিখিল কুমার চাকমা। তবে নিখিল কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা মেনে নেওয়ায় সভাপতি পদের জন্য আর ভোটে যেতে হয়নি।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. কামাল উদ্দীনের মধ্যে ভোটাভুটি হয়। এতে মুছা মাতব্বর ৩৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। মুছা পান ১৩৮ ভোট, আর কামাল উদ্দীন পান ১০২ ভোট।

সভাপতি পদপ্রত্যাশী নিখিল কুমার চাকমা বলেন, 'কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা মেনে আমি দীপংকর তালুকদারকে সমর্থন জানিয়েছি। কেন্দ্রীয় নেতারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।'

সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হাজী মুছা মাতব্বর বলেন, 'আমি সবার কাছে ঋণী। তারা আমাকে মূল্যায়ন করেছেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দীপংকর তালুকদারের নেতৃত্বে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।'

এর আগে সকালে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে রাঙামাটি জেলা সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, তিন পার্বত্য জেলার মহিলা সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা। এর আগে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের শুভ সূচনা করা হয়। সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের ২৪৬ কাউন্সিলর ছাড়াও দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মী যোগ দেন।