টি২০ বিশ্বকাপ চলাকালে সমালোচনার চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছিলেন লিটন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকার হচ্ছিলেন প্রতিনিয়ত। সীমাহীন কটূক্তি আর অপমানের চূড়ান্তে গিয়ে পৌঁছায়, যেদিন 'বিজ্ঞাপনে লেখা হয়- লিটন যত রান করবে তত শতাংশ মূল্য ছাড় পণ্যে।' হেনস্তার জবাব দিতে সেদিন ফেসবুকে সরব হয়েছিলেন লিটনের স্ত্রী দেবশ্রী বিশ্বাস। তাতে কিছুটা ভালো লাগা কাজ করলেও কষ্ট কমেনি। যে কারণে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বিমর্ষ লিটন আরও খোলসবন্দি হয়ে পড়েন। বিশ্বকাপ শেষ করেন ব্যর্থ হয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০ সিরিজের দলেও রাখা হয় না তাকে। কষ্টের পাহাড় বুকে চেপে পাকিস্তানের বিপক্ষেই টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান চট্টগ্রামে। সেই থেকে লিটনের সাফল্যের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি২০ তিন সংস্করণেই নিয়মিত তিনি। কারণ লিটনকে এখন আর সমালোচনা স্পর্শ করে না। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জানালেন নিজেকে বদলে নিয়েছেন তিনি। সাকিব আর লিটনের দর্শনে সে কি মিল, দু'জনের কেউই সমালোচনা গায়ে মাখেন না; বরং সমালোচনা থেকে ভালো খেলার প্রেরণা খোঁজেন তারা।

লিটন দুই দিন আগে লাইভ সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তাঁর কাছে দলের চাওয়া অনেক। রান দেখতে চান সমর্থকরাও। সে প্রত্যাশা পূরণ করতে দিয়ে সব সময় সফল হন তা নয়। তবে এখন তিনি সবদিক থেকেই আগের চেয়ে পরিণত। খারাপ পারফরম্যান্সের সমালোচনা হলে মেনে নেন, 'সমালোচনা হবেই। আমার যেহেতু জীবনটা ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে, ভালো খেললে আপনারা বাহ্বা দেবেন বা জনগণ দেবে, খারাপ খেললে একই জিনিস করবে (সমালোচনা)। কারণ তারা চায়, আমি পারফর্ম করি। এই জিনিসটা আমাকে আর ভাবায় না। আমি চেষ্টা করি, আমি কতখানি মনোযোগী অনুশীলনে, প্র্যাকটিস মেথডটা কী, আমার প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করছি কিনা। আমি আমার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে নিজের কাছে অপরাধী লাগবে। আমি স্রেফ আমার প্রক্রিয়া অনুসরণ করার চেষ্টা করি। ফল ওপরওয়ালার হাতে।'

লিটনের টেস্ট ক্যারিয়ার দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম ২৫ টেস্টে কোনো সেঞ্চুরি নেই। শেষ আট ম্যাচে তিন সেঞ্চুরি। গত ১২ মাসে ইংল্যান্ডের জো রুট যেখানে ২৭ ইনিংস খেলে ১,২৭২ রান করেছেন, লিটনের অর্জন সেখানে ১৪ ইনিংসে ৮১৯ রান। এ বছর তিন সংস্করণ মিলিয়ে করেছেন ৯১৫ রান। এমন বর্ণিল রেকর্ডের পেছনে একটি গোপন কৌশল রয়েছে লিটনের। প্র্যাকটিসের কৌশল বদলে নিয়ে নিজেকে তৈরি করেছেন নতুন রূপে। লিটন এখন উইকেট যান বড় রান করতে, 'আমি এখন বুঝি যে টেস্ট ক্রিকেটের ধরনটা কেমন। কতক্ষণ ধরে ব্যাটিং করলে রানগুলো বড় হবে। অ্যাশওয়েল প্রিন্স যে জিনিসগুলো আমাকে বুঝিয়েছিল, তা অনেকটাই আমার জন্য কাজের এবং আমি ওই জিনিসটাই অনুসরণ করি এখনও পর্যন্ত।' চট্টগ্রাম টেস্টে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৮৮ রানে আউট হন লিটন। সেদিন ১২ রানের আক্ষেপে পুড়তে হলেও ঢাকা টেস্টে তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান। মুশফিকের সঙ্গে বিশ্বরেকর্ড জুটি গড়ে দলকে নিয়ে যান শক্ত ভিতে। দ্বিতীয় দিন শেষে তাই লঙ্কানদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে বাংলাদেশ।