সাকিবের যে বলে দিমুথ করুনারত্নে আউট হলেন, তাতে টার্ন ছিল ৭.৭ ডিগ্রি। ওই বাঁক দেখে মনে হচ্ছিল উইকেট স্পিনারদের জন্য তৈরি হয়ে গেছে। এক দুই সেশনের মধ্যেই 'প্যাকআপ' শ্রীলঙ্কা! কিন্তু হলো উল্টোটাই। ম্যাচে ভালোভাবেই টিকে আছে শ্রীলঙ্কা। বল খেলতে তেমন কোনো সমস্য হয়নি। তাই সফরকারী ব্যাটিং কোচ নাভিদ নেওয়াজের মতে, তিন দিন শেষে ম্যাচে দুই দলই সমান। স্বাগতিকদের ৩৬৫ রানের জবাবে ২৮২ রান সফরকারীদের। ৮৩ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাতের পাঁচ উইকেট লঙ্কানদের আত্মবিশ্বাস। সেদিক থেকে দেখলে বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার কেউ কারও থেকে এগিয়ে নেই। বৃষ্টির কারণে এক সেশনের বেশি খেলা পরিত্যক্ত না হলে দিনের শেষটা অন্যরকমও হতে পারত।

প্রথম থেকেই স্লো ওভার রেট ছিল ঢাকা টেস্ট। পেস বোলিং বেশি করায় কোনো সেশনেই টার্গেট ওভার পূরণ করতে পারেনি তাঁরা। গতকাল বৃষ্টির কারণে আবার ব্যাটিংয়েও প্রত্যাশিত ওভার খেলা হয়নি। ৯৭ ওভার খেলে ২৮২ রান করে তাঁরা। ২৪২ মিনিটে ৫১ ওভার খেলা হয়। অর্থাৎ ৪৯ ওভার কম খেলেছে সফরকারী দল। এতগুলো ওভার খেলা হলে শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করে দেওয়ার সুযোগ পেলেও পেতে পারতেন সাকিবরা। তিন দিনে খেলা হয়েছে দেড় ইনিংস। ম্যাচের ফল পেতে শেষের দুই দিনে খেলতে হবে আড়াই ইনিংস। সেক্ষেত্রে উকেটের আচরণেও পরিবর্তন আসতে হবে। স্পিনবান্ধব হলে বাংলাদেশের জন্য বেশি ভালো। দু'জন বাঁহাতি স্পিনার সাকিব ও তাইজুল উইকেট বিলাশ করতে পারবেন।
মুশফিকুর রহিম দ্বিতীয় দিন সকালে বলেছিলেন, গ্রীষ্ফ্মের প্রখর রোদে শুকিয়ে কাঠ হবে পিচ। উইকেটে ফাটল দেখা দেবে তৃতীয় দিন সকাল থেকেই। গতকাল তেমন কিছু দেখা যায়নি। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া স্পিনাররা তেমন একটা টার্নও পাননি। এর অর্থ হলো, ম্যাচের তৃতীয় দিনও ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো উইকেট ছিল। নির্বাচক হাবিবুল বাশারের মতে, উইকেটের আচরণ তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি। আজ চতুর্থ দিন ফাটল ধরতে পারে। গতকাল মুষল ধারায় বৃষ্টি না হলে হয়তো পিচ কিছুটা ভাঙত। বিকেলের সেশনেই বড় বড় টার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো। উইকেট তেমন পরিবর্তন হোক বা না হোক, আজকের প্রথম সেশনটা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড আশা করেন, প্রথম সেশনেই শ্রীলঙ্কাকে গুটিয়ে দিতে সক্ষম হবেন তাঁরা।

দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল বোলিংয়ে অতটা সফল ছিল না বাংলাদেশ। রান খরচ কম হলেও জুটি ভাঙতে পারেনি। ৫১ ওভারে ১৩৭ রান দিয়ে তিন উইকেট নেওয়া গেছে। তবে লঙ্কান রানরেট নেমে গেছে ৩-এর (২.৯০) নিচে। রান কম হলেও উইকেট ধরে রাখতে পারা শ্রীলঙ্কার সাফল্য। স্লো খেলে সময় ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছিল তাঁরা। ব্যাটারদের শট খেলতে প্রলুব্ধ করা বা ফোকাস নষ্ট করার মতো খুব প্রভাব বিস্তার বোলিংও বেশি দেখা যায়নি। পেসার এবাদত হোসেন দারুণ কিছু স্পেল করলেও খালেদ আহমেদ পুরোপুরি ব্যর্থ। বলের লাইন লেন্থই ঠিক রাখতে পারেননি তিনি। এ জন্য অনভিজ্ঞতাকে দায়ী করলেন বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। তার মতে, এবাদত কতটা ভালো বোলিং করেছেন স্কোর কার্ড দেখে তা বোঝা যাবে না, ভিডিও ফুটেজ দেখে বুঝতে হবে। বিমানবাহিনীর এ পেসার সত্যিই অসাধারণ কিছু ডেলিভারি দিয়েছেন। এক চ্যানেল ধরে বল করে গেছেন টানা। তাঁর হাত ধরেই দিনের প্রথম ব্রেক থ্রোটা আসে। বাকি দুই উইকেট সাকিবের। করুনারত্নেকে ৮০ আর ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে ৫৮ রানে ফেরান। বিপজ্জনক দুটি জুটি ভেঙে স্বস্তি ফেরান। যদিও চট্টগ্রাম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ৫৮ আর দিনেশ চান্দিমাল ১০ রানে অপরাজিত। সাকিবদের আজ প্রথম কাজ হবে শুরুতেই ম্যাথুজ এবং চান্দিমালের উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের চাপে ফেলা। কারণ, জুটি গড়ার সুযোগ পেলেই বিপজ্জনক হয়ে উঠবেন তাঁরা দু'জন। বৃষ্টির কারণে এক সেশনের বেশি খেলা পরিত্যক্ত হওয়ায় আজ এবং কাল আধাঘণ্টা আগে দিনের খেলা শুরু হবে। বোলারদের জন্য যেটা একটা সুযোগ।