'মামলা তো দূরের কথা, আমার নামে একটি জিডিও নেই। কোনো অপরাধ করি নাই। অথচ পুলিশের ভুলে বিনা অপরাধে জেলখানার প্রকোষ্টে আমার কেটে গেল ৭টা দিন। জেলে কাটানো আমার ৭দিন কে ফিরিয়ে দেবে।' ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জেল থেকে বেরিয়ে অশ্রুসজল চোখে এভাবেই বলছিলেন নাজমুল শেখ। গত ১২ মে রাতে গাজীপুরে ভবানীপুর এলাকা থেকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ নাজমুলকে গ্রেপ্তার করে। প্রথমে তাঁকে গাজীপুর জেলা কারাগারে দুই দিন ও পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঁচ দিন রাখা হয়। ভুয়া ওয়ারেন্টে নাজমুলকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি দৃষ্টিতে আসে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের। পরে আদালতের বিচারক রেজাউল করিম চৌধুরী তাঁকে মুক্তির নির্দেশ দেন। গত ১৯ মে কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের সালদিয়া গ্রামের হাফিজ উদ্দিন শেখের ছেলে নাজমুল জেল থেকে মুক্তি পান।

গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর কালীগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই মিন্টু মিয়া ও সঙ্গীয় ফোর্স নাজমুলের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ছাড়াও মানসিক নির্যাতন করেছেন বলে গতকাল বুধবার গাজীপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসআই মিন্টু মিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নাজমুল শেখ জানান, তিনি স্ত্রী ও ২ সন্তান নিয়ে গাজীপুর সদরের ভবানীপুর এলাকায় বসবাস করেন। গোল্ডেন হারভেস্ট আইসক্রিম লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে স্টোরকিপার পদে চাকরি করে সংসার চালান। গত ১২ মে রাত ১০টার দিকে ওই প্রতিষ্ঠানের সামনে থকে সাদা পোশাকে পুলিশ পরিচয়ে তিন ব্যক্তি তাকে হাতকড়া লাগিয়ে কালীগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। নাজমুল বলেন, থানায় নেওয়ার পর পুলিশ তাঁকে জানায়, তার নামে ওয়ারেন্ট রয়েছে। তখন তিনি ওয়ারেন্টের কপি দেখতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা মিন্টু মিয়া তাঁকে মোবাইল ফোনে একটি ওয়ারেন্ট কপি দেখান।

তখন তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন তিনি এমন কিছু করেননি যে তাঁর নামে ওয়ারেন্ট হতে পারে। কোথাও ভুল হচ্ছে। তিনি পুলিশকে ভালো করে যাচাই করে দেখতে বলেন। কিন্তু পুলিশ কোনো সহযোগিতা না করে উল্টো তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ করেন নাজমুল। দুই দিন গাজীপুর জেলা কারাগারে থাকার পর ১৪ মে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে হাতকড়া এবং ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে জয়দেবপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে ঢাকায় নিয়ে যায়। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নামিয়ে রিকশা ও বাসে করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কেরানীগঞ্জ কারাগারে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাজমুল শেখ বলেন, তিনি জেলে থাকা অবস্থায় স্বজনরা বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ ও আদালতে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন যে তাঁর নামে কোনো মামলা নেই। তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর থেকে তিনি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বিনা দোষে জেল খাটায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জুবায়ের বলেন, আদালত থেকে জেলা পুলিশের কার্যালয়ে হয়ে ওয়ারেন্ট কপি তাঁদের কাছে আসে। এখানে ওয়ারেন্ট ভুয়া হওয়ার সুযোগ নেই। নাজমুলকে গ্রেপ্তার মিশনে অংশ নেওয়া এসআই মিন্টু বলেন, নাজমুলের বাবার নাম ও ঠিকানা সবকিছুই ঠিক আছে। ওয়ারেন্ট ভুয়া কিনা সেটা তাঁরা শনাক্ত করতে পারেন না। আদালত থেকে জেলা পুলিশ কার্যালয় হয়ে থানায় আসে। এরপর আসামি গ্রেপ্তারের জন্য তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছানোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন। পুলিশ সদস্যের কোনো প্রতারণা বা অনিয়মের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।