দরপতন ঠেকাতে যত ব্যবস্থা আছে, তার সবটাই নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আরো কী করা যায়, তার হিসাবও কষছে সংস্থাটি। কিন্তু কিছুতেই ফল পাচ্ছে না।

নানা কিছু করেও দরপতন ঠেকাতে না পেরে দরপতনের হার কমাতে পুরোনো পথে হেঁটেছে। সব শেয়ারের দরে নিচের সার্কিট ব্রেকার ২ শতাংশ বেঁধে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর এ ব্যবস্থা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলবে। দরপতনে লাগাম টানার এ ব্যবস্থার পরও বৃহস্পতিবার লেনদেন আজও দরপতন হয়েছে শেয়ারবাজারে।

দিনের লেনদেন শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টা শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে লেনদেনে আসা ৩৫৯ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৩টি সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। লেনদেনের এ সময় পর্যন্ত মোট ৮০ শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়েছে। সিংহভাগ শেয়ারে বিক্রেতার তুলনায় ক্রেতা কম।

বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএসইতে ১৫৭ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১১৭টিকে দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এ সময় দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৮৫ শেয়ার। এ সময় পর্যন্ত এ বাজারে ১১৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স এ সময় ২ পয়েন্ট বেড়ে ৬১৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। বুবধারের লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচকের ক্লোজিং অবস্থান ছিল ৬১৮৭ পয়েন্ট।

নিচের সার্কিট ব্রেকার ২ শতাংশ বেঁধে দিয়েও দরপতন বন্ধ হবে- এমন বিশ্বাস নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিরও ছিল না। তাই লেনদেনের শুরু থেকে দরপতন রোধে বিক্রির চাপ কমানোর চাপ দেয় ব্রোকারেজ হাউসকে।

এ কারণে শুরুর অবস্থান থেকে কিছুটা দরবৃদ্ধি পায় কিছু কোম্পানির। এতে লেনদেন শুরুর ১৪মিনিটে ১৫ পয়েন্ট বেড়ে সূচকটি ৬২০৩ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল। কিন্তু ফের বিক্রি চাপ বাড়তেই পরের ২৩ মিনিটে সূচকটি আগের অবস্থান থেকে ২৯ পয়েন্ট হারিয়ে ৬১৭৪ পয়েন্টে নেমেছিল। এভাবে উত্থান-পতনে দিনের লেনদেন চলছে।

নিচের সার্কিট ব্রেকার ২ শতাংশে বেঁধে দেওয়ার কারণে দরপতন বন্ধ হবে- এমনটা মনে করেন না শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ। তিনি সমকালকে বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে এ ব্যবস্থা নেই, যেখানে শেয়ারদর ১০ শতাংশ বাড়তে পারবে, কিন্তু ২ শতাংশের বেশি কমতে পারবে না। এমন হাস্যকর নিয়মের কারণে বিদেশিরা শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে।

আবু আহমেদ আরও বলেন, এ ব্যবস্থার কারণে আগে একদিনে সূচকের যে পতন হয়েছে, তা হয়তো তিন দিনে হবে। এ ব্যবস্থা যে কাজ করে না, তা এক মাস আগেই প্রমাণ হয়েছে। বারবার হস্তক্ষেপ না করে বাজারকে নিজের মতো চলতে দিতে এ সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এ শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ।

দরপতন ঠেকাতে আগেও এ ব্যবস্থায় গিয়েছিল সংস্থাটি। গত ৯ মার্চ এ নিয়ম চালুর পর দরপতনতো বন্ধ হয়নি, উল্টো দিনের পর দিন অনেক শেয়ারে ক্রেতাশূন্য অবস্থা তৈরি হওয়ায় লেনদেনের পরিমাণ ব্যাপক হারে কমেছিল। ব্যাপক সমালোচনার মুখে সংস্থাটি গত ২০ এপ্রিল তা কিছুটা সংশোধন করে নিচের সার্কিট ব্রেকার ৫ শতাংশে বেঁধে দিয়েছিল।