দ্বিতীয় দফায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার আদালতে তোলা হবে এনআরবি গ্লোবাল, রিলায়েন্স ফাইন্যান্সসহ একাধিক আর্থিক দুর্নীতির হোতা পি কে হালদার ও তার পাঁচ সহযোগীকে। তাদের আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করবেন ভারতের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কর্মকর্তারা।

ইডি কর্মকর্তারা সমকালকে জানান, শুক্রবার দুপুর ২টার পর কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে স্পেশাল সিবিআই ১ নম্বর কোর্টে বিচারক মাসুক হোসেইন খানের সামনে তাদের হাজির করা হবে। 

রিমান্ড শেষে এবার অভিযুক্ত পি.কে হালদার, প্রাণেশ হালদার, স্বপন মৈত্র ওরফে স্বপন মিস্ত্রি, উত্তম মৈত্র ওরফে উত্তম মিস্ত্রি, ইমাম হোসেন ওরফে ইমন হালদার, আমানা সুলতানা ওরফে শর্মী হালদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্তের জন্যও আবেদন করা হবে।

তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে কারাগারের ভেতরে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাইবে ইডি কর্মকর্তারা।

পিকে হালদারসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসংক্রান্ত ভারতীয় আইনের মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট ৩ এবং ৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছে ইডি। শুক্রবার দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে আরও একটি মামলা হতে পারে তাদের বিরুদ্ধে। 

ইডির আইনজীবী অরিজিত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, প্রথম তিন দিনের জেরা শেষে প্রায় ১৫০ কোটি রুপির বেশি সম্পদের হদিস পেয়েছে ইডি। 

তিনি বলেন, বিগত ১০ দিনে ক্রমাগত জেরা ও তল্লাশি অভিযানে শেষে আরও একাধিক লুকায়িত সম্পত্তির হদিস পেয়েছে ইডি, যার আর্থিক মূল্যমান ৩০০ কোটি রুপির মতো। 

ধৃত ছয়জনের কাছ থেকে ২৪টি মোবাইল ফোনসহ ৮১টি ইলেকট্রনিক গ্যাজেট উদ্ধার করেছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

এর মধ্যে ২৪ টি মোবাইলের ডেটা হাতে আসার পরেই ইডি কর্মকর্তাদের কপালে ভাঁজ পড়েছে। 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি পাচারের তথ্য মিললেও বাস্তবে পাওয়া সম্পদের পরিমাণ অনেকটাই কম। 

তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, পাচারের টাকার বড় অংশ পিকে হালদার ও তার সঙ্গীরা গোপনে অন্যত্র লগ্নি করেছেন। কিন্তু ঠিক কোথায় তারা লগ্নি করেছেন তা এখনও স্বীকার করেননি।

মোবাইল ফোনের কললিস্ট থেকে দুবাই, সিঙ্গাপুর, কানাডাসহ কয়েকটি রাষ্ট্রের কিছু সূত্রের নাম জানা গেছে, যেসব মাধ্যম হয়ে টাকা পাচার হত বাংলাদেশ থেকে।

আরেকটি সূত্র বলছে, ইডির তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলেই হাই প্রোফাইল এই মামলার তদন্তভার দেওয়া হতে পারে ভারতের আরেকটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইএর হাতে। 

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব, ভারতীয় নথি, অনুপ্রবেশ, অর্থলগ্নি সংক্রান্ত একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করতে পারে সিবিআই। 

ইডি কর্মকর্তারা বলছেন, সুলতানা ওরফে শর্মি হালদারকে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক চমকপ্রদ তথ্য তারা পেয়েছেন। তদন্তে তিনি ‘তুরুপের তাস’ হতে পারেন বলেও মনে করছেন তারা।

জিজ্ঞাসাবাদে শর্মী প্রথমে নিজেকে পি কে হালদারের ভাই প্রাণেশ হালদারের স্ত্রী বলে নিজেকে পরিচয় দিলেও পরে নানামাধ্যমে জানা গেছে তিনি পি কে হালদারের বান্ধবী।