রাজনৈতিক দলের নতুন নিবন্ধন দিতে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিবন্ধন পেতে আগ্রহী দলকে আবেদনের জন্য চার মাস অর্থাৎ ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সই করা এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালার শর্ত পূরণে সক্ষম রাজনৈতিক দলকে আবেদনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের গঠনতন্ত্র, দলের নির্বাচনি ইশতেহার (যদি থাকে), দলের বিধিমালা (যদি থাকে), দলের লোগো এবং পতাকার ছবি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি বা সমমানের কমিটির সব সদস্যের পদবিসহ নামের তালিকা, দলের নামে রক্ষিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও ব্যাংকের নাম এবং ওই অ্যাকাউন্টের সর্বশেষ স্থিতি, তহবিলের উৎসের বিবরণ, নিবন্ধনের দরখাস্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুকূলে প্রদত্ত ক্ষমতাপত্র, নিবন্ধন ফি বাবদ সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বরাবরে জমা করা অফেরতযোগ্য টাকার ট্রেজারি চালানের কপি সংযুক্ত করতে হবে।

সর্বশেষ দল নিবন্ধনের জন্য ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল ইসি। সময় দেওয়া হয়েছিল ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তখন নিবন্ধন পেতে আবেদন করেছিল ৭৬টি রাজনৈতিক দল। তবে কোনো দলকে ওই সময় নিবন্ধন দেয়নি ইসি। পরে অবশ্য আদালতের আদেশে নিবন্ধন পায় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম ও বাংলাদেশ কংগ্রেস। এর আগে ২০১৩ সালে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশনের সময় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ইসির নিবন্ধন পায়।

সবমিলে গত ১৪ বছরে মোট ৪৪টি দলকে নিবন্ধন দিয়েছে ইসি। এর মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ও আদালতের নির্দেশে পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিলও করা হয়। ফলে বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৩৯টি।

নিবন্ধন বাতিল হওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, ফ্রিডম পার্টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি) ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।