করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রাণক্ষয়ী দীর্ঘ যুদ্ধের পর জনজীবনে স্বস্তি ফিরছে। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বিশ্ববাসী। প্রাণ ফিরছে নাগরিক জীবনে। কিন্তু এই তো ক'দিন আগেও মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পেত। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল অধিকাংশ শিল্পকারখানা। খাঁ-খাঁ করছিল খেলার মাঠ। সন্ধ্যা নামার আগেই সুনসান নীরবতা দেখা যেত সড়কে। সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেতে সামাজিক দূরত্বের নামে একে অপরের থেকে দূরে অবস্থান করত। এমনকি করমর্দনও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এক নিষ্ঠুর, বিভীষিকাময় পৃথিবী দেখেছে সভ্যতা। এই দু'বছরকে অন্তত ৯৯ শতাংশ মানুষ সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখে থমকে থাকলেও অনেকেই ছিলেন অনন্য। তাঁরা একে সুযোগ হিসেবে নিয়ে স্বপ্ন বুনেছেন এবং বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই কীর্তিমানদের খুঁজে বের করেছে ফোর্বস। তাদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন সাত বাংলাদেশি তরুণও।

গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ ওয়েবসাইটে করোনাকালের ৩০ বছরের নিচে অনন্য ৩০ নায়কের নাম প্রকাশ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেরাদের তালিকা প্রকাশকারী মিডিয়া কোম্পানি ফোর্বস। ১০টি ক্যাটাগরিতে প্রস্তুত করা এ তালিকা আলোকিত করেছেন লাল-সবুজের ছোট্ট দেশটির শাহ রাফায়াত চৌধুরী, মোহাম্মদ তকি ইয়াসির, রেয়াসাত চৌধুরী, জাওয়াদ জাহাঙ্গীর, শুভ রহমান, জাফির সাফি চৌধুরী ও মির শাহরুখ ইসলাম। তাঁদের মধ্যে সামাজিক অভিঘাত শ্রেণিতে নাম এসেছে রেয়াসাত ও জাওয়াদের।

তাঁরা মহামারি পরিস্থিতি উপেক্ষা করে শাটল নামে একটি সেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনসাধারণকে নিরাপদ যানবাহনের ব্যবস্থা করে দিতেন। করোনাকালে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নামমাত্র ভাড়ায় মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছে এ কোম্পানি। তবে নারীদের নিরাপদ যান সরবরাহে এ প্রতিষ্ঠান চালু করা হয় ২০১৮ সালে। একই শ্রেণিতে ফোর্বসের নজর কেড়েছেন শাহ রাফায়াত ও তকি ইয়াসির। তাঁরা ২০১৩ সালে ফুটসস্টেপস বাংলাদেশ নামে একটি সংস্থা চালু করে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে পানি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কী কী চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, সেগুলোকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, এ ব্যাপারে সচেতন করছেন।
জাফির সাফি ও মির শাহরুখের নাম এসেছে শিল্পকারখানা, উৎপাদন ও শক্তি ক্যাটাগরিতে। তাঁরা বন্ডস্টেইন টেকনোলজি নামে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে রাস্তায় যানবাহনকে অনুসরণ ও পর্যবেক্ষণ করা হয়, যা ব্যয়সাশ্রয়ী, সেই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করছে। এন্টারপ্রাইজ টেকনোলজি শ্রেণিতে তালিকা অলংকৃত করেছেন শুভ। তিনি ২০১৮ সালে অ্যালিস ল্যাবস নামে একটি কোম্পানি খুলে ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেবা দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন গ্রাহকদের আচরণ মূল্যায়ন ও বিবেচনা করে তাঁদের সঙ্গে নিজ ভাষায় যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেয়।