চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে ডগ স্কোয়াড গঠনের জন্য নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে দেশে ফেরেননি দুই পুলিশ কনস্টেবল। তারা হলেন, কনস্টেবল মো. শাহ আলম এবং কনস্টেবল রাসেল চন্দ্র দে। ফিরতি ফ্লাইটের আগের দিন তারা অন্যদের সঙ্গে হোটেল থেকে বেরিয়েছিলেন। পরে প্রশিক্ষণে যাওয়া অন্য সঙ্গীরা ফিরে এলেও তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, সিএমপি থেকে আটজনকে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছিল। প্রশিক্ষণ শেষে ছয়জন মঙ্গলবার দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু শাহ আলম ও রাসেল আটদিনের প্রশিক্ষণ শেষ করলেও তারা ফিরে আসেননি। তাদের বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে ‘মিসিং রিপোর্ট’ করা হয়েছে।

ডগ স্কোয়াড গঠনের জন্য ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে পুলিশ সদরদপ্তর একটি প্রস্তাব পাঠায় সিএমপিতে। স্কোয়াডে দুই প্রজাতির বেশ কিছু কুকুর রাখার কথা বলা হয়। কুকুর সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পায় মেসার্স রিফা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সে অনুযায়ী ‘ম্যানেজমেন্ট, হ্যান্ডলিং অ্যান্ড ট্রেনিং অব ডগ’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে ৯ মে আট সদস্যের প্রতিনিধি দলটি নেদারল্যান্ডসে যায়। সেই দলে পুলিশের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে একজন এসআই (সশস্ত্র), একজন নায়েক এবং পাঁচজন কনস্টেবল ছিল।

নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম (সিটি) বিভাগের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ডগ স্কোয়াড ইউনিট খোলা হচ্ছে। আর সেই ইউনিটের কার্যক্রম হিসেবেই দলটি প্রশিক্ষণে গিয়েছিল। প্রস্তাবনা অনুযায়ী নতুন ইউনিটে সিএমপি দুটি ভিন্ন প্রজাতির ২০টি প্রশিক্ষিত কুকুর এখানে যোগ হবে। ৮টি জার্মান শেফার্ড ও ১২টি ল্যাব্রাডর। কর্মকর্তাসহ ৩৮ জন পুলিশ থাকবেন এ দলে।

দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সিএমপি।

দেশে না ফেরা পুলিশ সদস্য রাসেলের বাড়ি কক্সবাজারে আর শাহ আলমের বাড়ি কুমিল্লায়। তারা সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনস ও মনসুরাবাদ পুলিশ লাইনসের ব্যারাকে থাকতেন।