যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস শহরের উভালডের রব এলেমেন্টারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে পুলিশ ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ নিয়েছিল। এ হামলায় ১৯ শিশু নিহত হয়।

টেক্সাসের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্টিভেন ম্যাকক্র শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যদি ক্ষমা চাইলে কোনো উপকার হয়, তবে আমি চাইব। খবর বিবিসির।

তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা ওই রুমে ঢুকতে দেরি করে ফেলেছেন। কেননা, তারা বিশ্বাস করেননি যে, ভেতরে তখনও পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক ছিল। কিন্তু ভেতর থেকে পুলিশের সাহায্য চেয়ে একাধিক কল এসেছিল।

ম্যাকক্র নিশ্চিত করেন, রব এলেমেন্টারি স্কুলে পুলিশ সদস্যদের আসা ও যে রুমে বন্দুকধারী রয়েছে সেখানে অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যে ৪০ মিনিটের ফারাক রয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা স্কুলের নিরাপত্তা কর্মী চাবি নিয়ে আসার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কেননা, তারা মনে করেছে, ‘কোনো শিশু আর ঝুঁকির মধ্যে নেই’, অথবা ‘কেউই আর বেঁচে নেই’।

‘দয়া করে ‍পুলিশ পাঠান’

বন্দুকধারী বিদ্যালয়ের ভেতরে ঢোকার পর সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা ৯১১ জরুরি সেবা নম্বরে একাধিকবার কল দিয়েছে বলে জানান ম্যাকক্র।

প্রথমে ১২.০৩ মিনিটে এক শিক্ষার্থী কল দিয়ে নিজের পরিচয় দেয় এবং ফিসফিস করে জানায় সে ১১২ নম্বর রুমে আছে। এর পর ১২.১০ মিনিটে সে আবার কল দিয়ে জানায়, সেখানে কয়েকজন নিহত হয়েছে। ১২.১৩ মিনিটে সে তৃতীয়বারের মতো কল দেয়। ১২.১৬ মিনিটে কল দিয়ে বলে, সেখানে আট থেকে নয়জন বেঁচে আছে। ১২.১৯ মিনিটে রুম নম্বর ১১১ থেকে আরও একটি কল আসে। অন্য একজন ফোন কেটে দিতে বললে সে কল কেটে দিল। ১২.২১ মিনিটে কলের মধ্যে তিনটি গুলির শব্দ শোনা যায়। ১২.৩৬ মিনিটে প্রথম যে কল দিয়েছিল সে আবার কল দেয়। তখন তাকে বলা হলো, চুপচাপ লাইনে থাকতে। সে বলল, বন্দুকধারী দরজায় গুলি করছে। ১২.৪৩ ও ১২.৪৭ মিনিটে ৯১১ এ কল করে সে বলে, ‘দয়া করে এখনই পুলিশ পাঠান’। ১২.৪৬ মিনিটে সে বলে, সে পুলিশ আসার শব্দ শুনতে পাচ্ছে। ১২.৫০ মিনিটে কলের মধ্যেই গুলির শব্দ শোনা যায়। ১২.৫১ মিনিটে বেশ কিছু শব্দ শোনা যায়। শব্দ শুনে মনে হচ্ছে পুলিশ সদস্যরা বাচ্চাদের রুম থেকে বের করছেন।

পুলিশের বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া এবং বন্দুকধারী স্কুলের ভেতর থাকা অবস্থায় হতাশাগ্রস্ত অভিভাবকদের ঠেকানো ও হাতকড়া পরানোর ভিডিও মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া কীভাবে পুলিশ এ পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে তা তদন্তের দাবিও ওঠছে।

ম্যাকক্র বলেন, স্কুলের কাছে ওই বন্দুকধারীর গাড়ি ১১.৩০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এর পর সে ভবনের চারপাশে হেঁটে ক্লাসরুমে ঢুকতে চাওয়ার সময় ‘একশ’ রাউন্ডের বেশি গুলি ছোড়ে’।

তিনি বলেন, হামলাকারী ১১.৩৫ মিনিটে একটি দরজা দিয়ে স্কুলে ঢোকে যা একটু আগে এক শিক্ষক খুলেছিলেন। পরে বন্দুকধারী নিজেকে ক্লাসরুমে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে কয়েক মিনিট পর অনুসরণ করলেও হলওয়েতে গিয়ে থেমে যায়।

ম্যাকক্র বলেন, ১৯ জনের মতো পুলিশ সদস্য ক্লাসরুমের বাইরে একসঙ্গে হলেও তারা ভেতরে ঢোকার জন্য তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেননি। হামলা শুরুর প্রায় ৭৫ মিনিট পর ১২.৫১ মিনিটে কৌশলগত ইউনিট ক্লাসরুমে ঢুকে বন্দুকধারীকে হত্যা করে। ওই বন্দুকধারী নিহত হওয়ার পর তার কাছে পুলিশ ১৬৫৭ রাউন্ড গুলি এবং ৬০টি ম্যাগাজিন পেয়েছে।

২৪ মে স্থানীয় সময় বিকেলে ওই বিদ্যালয়ে এক বন্দুকধারীর গুলিতে ১৯ শিক্ষার্থীসহ ২১ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারী সালভাদর রামোস পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে।