বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক শক্তি ও আমলাতন্ত্র কখনো পুলিশের সংস্কার বা পরিবর্তন চাইবে না বলে মনে করেন সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল চায় তারা যা বলবে পুলিশ তাই করবে; এমপি চান তিনি যা বলবেন ওসি সেটাই করবেন। এসব চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে কাজ করা খুবই কঠিন।

দীর্ঘ ৩২ বছরের কর্মজীবন নিয়ে তার লেখা 'পুলিশ জীবনের স্মৃতি: স্বৈরাচার পতন থেকে জঙ্গি দমন' বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হয়।

সেখানে তিনি বলেন, আমি রাজনৈতিক অপশক্তির কাছে মাথা নত করিনি। চাকরিতে থাকা অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হইনি। তবে আমার মতো তো সবাই পারবে না। এজন্য একটা সিস্টেম চালু করা উচিত যাতে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে। পুলিশ বিচারব্যবস্থার অংশ। তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না পারলে ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম কখনও কার্যকর হবে না।

সাবেক এই পুলিশ প্রধান বলেন, পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হলে আইন সংস্কার করা প্রয়োজন। সেই উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল কিন্তু তা আর হয়নি। সেটা হয়নি আমলাদের কারণে। আর রাজনীতিকরা তো চাইবেনই না। যদি রাজনীতিক ও আমলাদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন না ঘটে তাহলে সুশাসন কথাটা শুধু স্লোগানের মধ্যেই থাকবে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশকে অনেক বৈরী পরিবেশের মধ্যে কাজ করতে হয়। সবাই পুলিশের সেবা চায়। কিন্তু কেউই পুলিশকে পছন্দ করে না। পুলিশকে বুঝতে হলে পুলিশের কাছে যেতে হবে। পুলিশকে আস্থায় নিতে হবে। সেইসঙ্গে পুলিশকেও উপনিবেশিক মন-মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির সভাপতি ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, শুধু পুলিশবাহিনী নয়, সব পাঠকের জন্য সুখপাঠ্য এই বই। আঙ্গিকগত দিক থেকে বইটি অসাধারণ মনে হয়েছে।

কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, আত্মজীবনী মূলত 'আমি' প্রধান হয়। কিন্তু শহীদুল হক তার বইয়ে নিজেকে বড় করেননি, নিজের কর্মজীবনকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি সব ঘটনাকে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন, আমলাতন্ত্রের সমালোচনা করেছেন।

সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, জনগণ পুলিশের কাছে কী চায় তা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশবাহিনীর সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সমাধান করতে অন্তত ৪০-৫০ বছর সময় লাগবে।

কবি ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, পুলিশের প্রতি মানুষের নেতিবাচক ধারণা দূর করা প্রয়োজন, তা লেখক স্পষ্টভাবে বলেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বইটিতে লেখক প্রশ্ন রেখেছেন 'পুলিশ কী জনতার হবে?' তিনি পুলিশকে ফোর্স না বলে সেবাদানকারী সংস্থা বলার পক্ষে মত দিয়েছেন।

দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহ্‌রুখ মহিউদ্দীন বলেন, পুলিশ হিসেবে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা বইটি প্রকাশ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।