নকল করতে সুযোগ না দেয়ায় শিক্ষককে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে সাবেক ছাত্র মুরাদ হোসেন হোসেনের বিরুদ্ধে। শনিবার লক্ষ্মীপুরের চুটমর আসাদ একাডেমি প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার হেলাল উদ্দিন টুমচর আসাদ একাডেমির ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষক। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হেলাল উদ্দিন জানান, তার সাবেক ছাত্র মুরাদ হোসেনকে নকল করার সুযোগ না দেওয়ায় নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় মুরাদ। এ কারণে ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি সে। সেই ক্ষোভে শনিবার বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে একদল সস্ত্রাসীসহ পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। পরে অন্য শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত মুরাদ সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাসেমের ছেলে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মুরাদ হোসেনের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। এমনকি তাকে পাঠানো খুদে বার্তায় মারধরের কারণ জানতে চাওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। 

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে মোটরসাইকেলে করে হেলাল উদ্দিন বিদ্যালয়ে আসছিলেন। কিন্তু তিনি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতেই ওঁত পেতে থাকা মুরাদ ও তার ৬-৭ জন সহযোগী লাঠিসোঁটা নিয়ে শিক্ষকের উপর হামলা করে। এ সময় তার মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করে তারা। এসময় অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। পরে হেলাল উদ্দিনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

টুমচর আসাদ একাডেমি অধ্যক্ষ ফারজানা নুর জানান, শিক্ষকের উপর ছাত্রের এমন হামলার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। প্রাক্তন ছাত্র কিভাবে শিক্ষকের উপর হামলা করে! হামলাকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, শিক্ষককে মাধরের বিষয়টি তিনি মৌখিক শুনেছেন। তবে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।