তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের তরুণরা আর চাকরি খুঁজবে না, চাকরির ক্ষেত্র সৃষ্টিকারী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে। ডলার আয়ের জন্য এখন আর বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন নাই। এটাই শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি, কাজেই বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান বা অন্য কোনো ব্যর্থ রাষ্ট্রের সাথে তুলনার সুযোগ নেই। 

আজ রোববার মানিকগঞ্জের ঘিওরে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ উপলক্ষে মানিকগঞ্জের ঘিওর ডিএন উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. নাঈমুর রহমান দুর্জয় উপস্থিত ছিলেন। 

পলক বলেন, ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার’ মানিকগঞ্জবাসীর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এক অনন্য উপহার। আমরা আশা করছি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে খুব দ্রুত এই আইটি ট্রেনিং সেন্টারের নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং দুই বছরের মধ্যে এখানে আমরা কার্যক্রম শুরু করব। এখান থেকে প্রতি বছর এক হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে। এই তরুণ-তরুণীরা মানিকগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেই ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে ডলার আয় করবে। নিজেরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তারুণ্যের মেধা ও প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের তরুণরা চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করবে। দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা ও আত্মনির্ভরশীল হতে পারে সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্রেন চাইল্ড শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, স্কুল অব ফিউচার, ডিজিটাল এডুটেইনমেন্ট সেন্টারসহ দেশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, আগামীতে আমাদের মেধাবী তরুণরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি রোবটিক্স, আইওটি, সাইবার সিকিউরিটি টুলস তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করবে। সরকার সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে নিরলস কাজ করছে। 

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. নাঈমুর রহমান দুর্জয় বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আর আমদানিকারক দেশ থাকতে রাজি নই, আমাদেরকে এখন রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। দেশে এখন বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ বিরাজ করছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কাজ করার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। 

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি মানিকগঞ্জে এই আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের পর বৃহৎ পরিসরে হাই-টেক পার্কও স্থাপন করা হবে। এজন্য যেকোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে অত্র এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে আমি এবং এই এলাকার জনগণ পাশে আছে।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (গ্রেড-১) ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ৬৪টি জেলায় আইটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করছে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জে আজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। মানিকগঞ্জ ছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় আরও ১০টি জেলা- নারায়ণগঞ্জ, ভোলা, জয়পুরহাট, কিশোরগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বান্দরবান, সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর, দিনাজপুর ও মেহেরপুরে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ১১টি জেলায় প্রায় ৭৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. রফিকুল ইসলাম; শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (১১ জেলা) প্রকল্পের পরিচালক একেএম আব্দুল্লাহ খান; মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের পরিচালক মো. হুমায়ূন কবীর, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. গোলাম মহিউদ্দীন, ঘিওর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঘিওর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ঘিওর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম মিন্টু। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।