নরসিংদীর রায়পুরায় যৌতুকের দাবিতে লুৎফা বেগম (২৫) নামে আট মাসের অন্তসত্ত্বা এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে উপজেলার মহেষপুর ইউনিয়নের বেগমাবাদ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। রোববার দুপরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। 

নিহত লুৎফা রায়পুরা উপজেলার মতিউর নগর এলাকার একরাম হোসেনের মেয়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নিহতের স্বামী নুরুজ্জামান মিয়াকে (৩৩) আটক করেছে রায়পুরা থানা পুলিশ। তিনি একই উপজেলার বেগমাবাদ গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে।

নিহত গৃহবধূর স্বজনদের দাবি, ‌‌‌‘পাঁচ বছর আগে নুরুজ্জামানের সঙ্গে লুৎফা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নুরুজ্জামানের পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে ঘর সাজানোর জন্য সোফা, খাটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র দেয়ার কথা ছিল লুৎফার বাবার। কিন্তু বিয়ের পর বিভিন্ন সমস্যার কারণে মেয়ের স্বামীর বাড়িতে আসবাবপত্র দিতে পারেননি। এর জের ধরে শুক্রবার রাতে লুৎফা বেগমের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয় নুরুজ্জামান ও শাশুড়ি কালা বেগম। একপর্যায়ে তারা দু'জনই লুৎফা বেগমকে মারধর করে ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। এলাকাবাসী ঘটনাটি আঁচ করতে পেরে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ রাত ১টার দিকে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় শাশুড়ি পালিয়ে গেলেও নুরুজ্জামানকে আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী।'

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়েছে।