পাঁচ বছর আগে যশোর জেলার শীর্ষ ১৪ মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারের ঘোষণা দেয় পুলিশ। সেই তালিকার চার নম্বরে ছিলেন চৌগাছা উপজেলার শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি মেম্বার। গত শনিবার ওই উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তাঁকে সভাপতি করা হয়েছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ জেলার সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে। পুলিশ জানিয়েছে, শফি মেম্বারের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় ১৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বেশক'টি মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামের দাবি, শত্রুতামূলকভাবে তাকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৪ মে যশোর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করে জেলা পুলিশ। তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান জেলার ১৪ শীর্ষ মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেন। ওই তালিকার ৪ নম্বরে ছিল চৌগাছার বড় কাবিলপুর গ্রামের সোনাই মণ্ডলের ছেলে শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি মেম্বারের নাম। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে তখন বিদেশ চলে যান তিনি।

বছরখানেক আগে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন শফিকুল। গত ২৮ মে ধুলিয়ানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের ওই সম্মেলনে শফিকুল ইসলামকে সভাপতি ও ফারুক হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে আট সদস্যের আংশিক কমিটি হয়। তাঁদের নাম ঘোষণা করেন চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী।

এ নিয়ে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেন, শীর্ষ মাদক কারবারি শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি মেম্বার পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি দলের শীর্ষ নেতাদের হাত করে পদ বাগিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নেতাদের তুলাধুনা করছেন লোকজন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও তাঁদের দাবি।

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সবুজ জানিয়েছেন, শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি মেম্বারের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন আইনে ১৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বেশক'টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, 'মানুষের নামে মামলা থাকলে দলীয় পদে আসতে পারবে না- এমন কথা কোথাও লেখা নেই। দল যদি মনে করে পদে রাখবে না, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা হয়েছে, প্রতিটিই ষড়যন্ত্রমূলক। এ সব মামলায় উল্লেখিত ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।'

এরই মধ্যে তিনি দুটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন উল্লেখ করে দাবি করেন, 'বর্তমানে ১৬টি মামলা আছে। বিদেশে অবস্থানকালেও তিনটি মামলায় আসামি হয়েছি।' তিনি কখনও মাদকসহ আটক হননি বলেও মন্তব্য করেন।

শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা ও পুলিশের লোকের সঙ্গে বিরোধ থাকায় আমাকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।' ইউপি সদস্য হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের সময় মানুষের জন্য কাজ করেছেন। যে কারণে অনেকের কাছে শত্রু হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী সোমবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, জীবনবৃত্তান্তের তথ্য গোপন করেছিলেন শফিকুল ইসলাম। যে কারণে ধুলিয়ানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তাঁর পদ স্থগিত করা হয়েছে। দ্রুতই এ বিষয়ে চিঠি দেবেন তাঁরা।