সরকার পরিবর্তনে বৃহত্তর আন্দোলনের প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে বিএনপির কাছে ৩১ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। বুধবার বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

এর আগে সরকার পরিবর্তনে বৃহত্তর আন্দোলনের প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সঙ্গে সংলাপ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুপুর ১টা ২০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে প্রায় পৌনে দুই ঘন্টাব্যাপী এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সাইফুল হক জানান, সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনেও বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি। সামগ্রিকভাবে সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আর আজকের আলোচনায় বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে ৩১ দফা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে পেশ করেছি।  

তিনি বলেন, গত ২০১৪ এবং ১৮ সালের মতো আরেকটা ব্যর্থ নির্বাচনের দায় বাংলাদেশের মানুষ ও জনগণ গ্রহণ করতে পারবে না। আমরা একমত হয়েছি, বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি যে পর্যায়ে- সেখানে দেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার সুযোগ নেই। তাই নির্বাচনের আগেই বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। এসব বিষয়ে আমরা একমত পোষণ করেছি।

সাইফুল হক বলেন, গণ আন্দোলন, সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে এই সরকারকে যদি পদত্যাগে বাধ্য করা না যায় তাহলে মানুষ ভোট ও গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যাবে না। কোনো দল পরিবর্তন করার জন্য এই আন্দোলন নয়। রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এবং তার পরিবর্তনের জন্য এ আন্দোলন। 

তিনি আরও বলেন, একই সাথে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কারসহ রাষ্ট্র প্রশাসনের গণতান্ত্রিক সংস্কার, সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সংস্কার করা দরকার। এসব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

গতানুগতিক একটা বিশেষ সরকারকে পদত্যাগ করিয়ে আরেকটা গতানুগতিক সরকার গঠনের জন্য এ আন্দোলন নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমরা প্রত্যেকে যায় যায় অবস্থা থেকে একেবারে ন্যুনতম ইস্যুতে- যেমন ভোটাধিকারের প্রশ্ন, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা- সেই কাজগুলো আমরা আগামী কিছুদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ করবো। এছাড়া যুগপৎ আন্দোনের বিষয়ে আমাদের মধ্যে ঐক্যমত সম্পূর্ণ হয়েছে। ভবিষ্যতে এটা আরো আমরা জোরদার করবো। 

সংলাপ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, অত্যন্ত আনন্দের কথা- আজকে আমরা উভয় দল কতগুলো মৌলিক বিষয়ে একমত হয়েছি। আর বাকি বিষয়ে ভবিষ্যতে অতি দ্রুত আলোচনার মধ্যে দিয়ে পর্যায়ক্রমে সেবিষয়গুলো আমরা সমাধান করতে পারবো বলে বিশ্বাস করি। আর এখানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিনা কারণে আটকে রাখা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাসিত করে রাখা, প্রায় ৩৫ লক্ষ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা এবং দেশে একটা ভয়াবহ ত্রাসের অবস্থা করে রাখার ব্যাপারে আমরা একটা আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে আমরা পদত্যাগে বাধ্য করবো। এখানে এটা সবেচেয়ে বড় বিষয়। এবিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। আর পদত্যাগে বাধ্য করার পরে এ সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে- এব্যাপারেও আমরা একমত হয়েছি। এরপরে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্যে দিয়ে জনগণ এবং সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে একটা নতুন ভোটের বিষয়েও আমরা একমত হয়েছি। 

ফখরুল ববলেন, আমরা যারা একমত হয়েছি, তারা যৌথভাবেই আমরা আন্দোলন শুরু করবো। নিজেদের নিজেদের জায়গা থেকে আমরা আন্দোলন শুরু করবো। এই আন্দোলন যুগপৎ হবে। আর আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সিদ্ধান্ত হবে এই ধারা কি রূপ নিচ্ছে। 

বিএনপির পক্ষে সংলাপে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষে সাইফুল হকের সঙ্গে আকবর খান, বহ্নিশিখা জামালী, আনসার আলী দুলাল, আবু হাসান টিপু, মীর মোশাররফ হোসেন মোস্তাক, মাহমুদ হোসেন, অ্যাপোল জামালী সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২৪ মে রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ২৭ মে বাংলাদেশ লেবার পার্টি এবং ৩১ মে গণসংহতি আন্দোলনের সঙ্গে সংলাপ করেছে বিএনপি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপের অংশ হিসেবে এসব বৈঠক করছে বিএনপি।