কেক তো রকমারি স্বাদের হয়। চকলেট, মিল্ক্কশেকও আছে নানা পদের, নানা স্বাদের। এসব মুখরোচক খাবারের আবরণে অভিজাত একশ্রেণির তরুণ-তরুণী সেবন করছেন মাদক! ঘরে-বাইরে নানা আড্ডায় তাঁরা মাতছেন গাঁজা সমেত কেক, চকলেট আর মিল্ক্কশেকে। এসব খাবার খেয়ে নেশায় বুঁদ হচ্ছেন তাঁরা।

রাজধানীর গুলশান থানা পুলিশ গাঁজায় তৈরি এসব খাবারের উৎপাদক আর হোম ডেলিভারি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে মাদককে খাবারে রূপান্তরের ভয়ংকর এই রেসিপি। সম্প্রতি গুলশান ও উত্তরা থেকে জুবায়ের হোসেন, অনুভব খান রিবু ও নাফিসা নাজা নামে তিন তরুণ-তরুণীকে গ্রেপ্তার করলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার তিনজন ইউটিউব থেকে গাঁজা দিয়ে এই কেক, চকলেট আর মিল্ক্কশেক বানানো শিখেছে। তাদের ক্রেতাদের বড় অংশই অনলাইনভিত্তিক এবং তারা বয়সে তরুণ। ইনস্টাগ্রামে এরা বড় একটা ক্রেতা গ্রুপ তৈরি করে ফেলেছে। কেউ অর্ডার করলেই এই মাদক পৌঁছে যেত বাসায়।

গত মঙ্গলবার গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান বলেছেন, গ্রেপ্তার তিনজনকে তাঁরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জানতে চেয়েছেন, ক্রেতা কারা এবং এরা সংখ্যায় কেমন? ওই তিনজন জানিয়েছেন, অনলাইনে তাদের ক্রেতা গ্রুপে রয়েছে এক হাজার থেকে ১২০০ তরুণ-তরুণী। এরা প্রায় সবাই অভিজাত শ্রেণির সন্তান। ঢাকার গুলশান, বনানী, উত্তরা, বারিধারা, ধানমন্ডির মতো অভিজাত আবাসিক এলাকায় এই খাবারের নামে মাদকসেবীদের বাস।
ওসি বলেন, জুবায়ের, রিবু ও নাজাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তাদের হেফাজতে পাওয়া গেলে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করে ক্রেতা চক্রটিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের ডিসি মো. আসাদুজ্জামান গত সোমবার নিজের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছিলেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, চক্রটি ইউটিউবে কানাডিয়ান ও আফ্রিকান মাদক ব্যবসায়ীদের তৈরি বিভিন্ন ভিডিও দেখে দেশীয় পদ্ধতিতে গাঁজা দিয়ে কেক, চকলেট, মিল্ক্কশেক তৈরি করা শিখেছে। তারা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ১৪ নম্বর রোডে জুবায়েরের বাসায় বসে গাঁজা দিয়ে এসব পণ্য তৈরি করত। এরপর হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তা পৌঁছে দিত ক্রেতার বাসায়। জুবায়ের গুলশান এলাকায় হোম ডেলিভারি দিতে এসে ধরা পড়ে। এরপর তার মাধ্যমে পাওয়া যায় অন্য দু'জনকে।