রাজধানীর আদাবরের জাপান গার্ডেন সিটির বহুতল ভবন থেকে পড়ে গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জায়না হাবীব প্রাপ্তির (২২) মৃত্যু হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজের ভাতিজি। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে- তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে প্রাপ্তির মোবাইল ফোনের সঙ্গে পাওয়া একটি চিরকুটে তাঁর আত্মহননের ইঙ্গিত মিলেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার মুজিব আহমেদ পাটোয়ারী বলেন, জাপান গার্ডেন সিটির ১৬ নম্বর ভবনের দোতলার ১০২ নম্বর ফ্ল্যাটে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন প্রাপ্তি। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে ভবনের ১৬ তলার ছাদ থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাবির হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন প্রাপ্তি। তাঁর বাবা হাবিবুল আজিজ স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ছিলেন। তাঁর মায়ের নাম শাহনাজ পারভীন। প্রাপ্তি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। গতকাল বিকেলে তিনি বাসভবনের ছাদে যান। তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। তিনি ছাদের দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দেওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মী তা খোলা রাখার অনুরোধ করেন। তবে তিনি তা শোনেননি। এর কিছুক্ষণ পর ভবন থেকে কারও পড়ে যাওয়ার শব্দ পাওয়া যায়। পরে তাঁর রক্তাক্ত দেহ মেলে ভবনের নিচে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং চিরকুটের বক্তব্য অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ছাদে একটি পলিথিনের ভেতর রাখা মোবাইল ফোনের কভারে চিরকুটটি ছিল। সেটির ভাষ্য ছিল, ব্যক্তিগত আবেগজনিত জটিলতার কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। তিনি মনোকষ্টে ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যদের প্রতি অভিমান ছিল তাঁর। নিজের জীবনকে তাঁর ব্যর্থ মনে হয়েছে। কারণ মা-বাবা বা অন্য কাউকে তিনি খুশি করতে পারেননি। তবে তাঁর জন্য কিছুই থেমে থাকবে না, তাঁর শূন্যতা সহজেই পূরণ হয়ে যাবে- এ জাতীয় কথাবার্তাও ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে আদাবর থানার ওসি কাজী শাহিদুজ্জামান জানান, ঘটনার আগে ওই ছাত্রীকে ১৬ তলার ছাদে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেছে। এক পর্যায়ে সবার অগোচরে তিনি নিচে পড়ে যান, কিংবা লাফ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।