রাজধানীর শাহজাহানপুরের গুলবাগে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া গৃহবধূ পাপিয়া সারোয়ার (১৮) মারা গেছেন। গতকাল বুধবার ভোরে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এসএম আইয়ুব হোসেন জানান, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় গত ২৮ মে তাঁকে এখানে আনা হয়। শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তিনি শুরু থেকেই সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাতে অবস্থার আরও অবনতি হয়। এক পর্যায়ে ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, শান্তিবাগের সিটি ইন্টারন্যাশনাল কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন পাপিয়া। গুলবাগের ঝিলপাড়ের বাসায় তিনি তাঁর স্বামী মো. রামিমের সঙ্গে থাকতেন। তিন বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। রামিম খিলগাঁওয়ে মোবাইল ফোন রিচার্জের ব্যবসা করেন। ঘটনার দিন ওই বাসাতেই গায়ে আগুন দেন পাপিয়া। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেদিনই তাঁকে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।

পাপিয়ার মা পারভীন আক্তার জানান, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরেই রামিমের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর আরেক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান রামিম। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। রামিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।