কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে গত বুধবার। গঠনতন্ত্রে ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও স্থান পেয়েছেন দুই শতাধিক নেতা। সবাইকে খুশি করতে এমন কমিটি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, কমিটিতে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী, বিবাহিত, চাকরিজীবী স্থান পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিটি নিয়ে নানা বিরূপ মন্তব্য করছেন নেতাকর্মীরা।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর-গ-এ বলা আছে, কোনো নিয়মিত শিক্ষার্থী (৫-এর-ক উপধারা অনুযায়ী) ছাত্রলীগের কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হতে পারে। বিবাহিত, ব্যবসায়ী ও চাকরিতে নিয়োজিত ছাত্রছাত্রী ছাত্রলীগের কর্মকর্তা হতে পারবে না। তবে গঠনতন্ত্রের এ ধারা কুষ্টিয়া ছাত্রলীগের অনেক নেতার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়নি।

ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী জানান, শেখ সজিব ওরফে এসকে সজিব শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি। তিনি পেয়েছেন সহসভাপতির পদ। ২০১৬ সালের দিকে ফেনসিডিলসহ সজিবকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তার তিন বন্ধুকেও আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মডেল থানায় মাদক মামলা হয় সে সময়। গত বছর এক যুবককে ছুরিকাঘাত করার ঘটনার মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়। লেখাপড়ায় তিনি স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারেননি বলে জানা গেছে।

মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল জানান, সজিবের নামে মাদক, হত্যাচেষ্টাসহ তিনটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া নানা অপরাধের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
শেখ সজিব দাবি করেন, তাদের চার বন্ধুকে ডেকে নিয়ে ফেনসিডিল দিয়ে ফাঁসানো হয়। ছোট ছিলেন বলে ভুল করতেই পারেন। ওই মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মারামারি মামলায় তার নাম থাকলেও এসব মিথ্যা।

সজিব বলেন, ২০১৪ সালে এসএসসি দেওয়ার সুযোগ হয়নি। ২০২০ সালে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার একটি স্কুল থেকে উন্মুক্ত পরীক্ষা দিয়ে এসএসসি পাস করেছেন তিনি। এখন শহরের ইসলামিয়া কলেজে উন্মুক্ততে এইচএসসি পড়ছেন বলে দাবি করেন।

সহসভাপতি পদ পাওয়া চঞ্চল হোসেন ও শাকিল আহমেদ তুষারের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চঞ্চলের মাদক সেবনের ভিডিও ও ছবি রয়েছে।

চঞ্চল হোসেন দাবি করেন, তাকে হেয় করতে সিগারেট সেবনের ভিডিও কে বা কারা মাদক সেবন বলে প্রচার চালাচ্ছে। থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফেনসিডিলসহ আটকের পর তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সহসভাপতি পদ পেয়েছেন ৫৮ জন নেতা। এদের মধ্যে কমপক্ষে সাতজন বিবাহিত। বিয়ে ও কাবিননামার ছবিও মিলেছে কয়েকজনের। বিবাহিতদের মধ্যে আছেন মেহেদী হাসান রিমন, দিদারুল ইসলাম দিদার, শুভ আহমেদ, হিরোজ আল মামু, ইমরান নাজির ও আসলাম উদ্দিন।

সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রবিরোধী কাজ করায় দল থেকে বহিস্কৃত আলিমুল ইসলাম সবুজ পেয়েছেন সহসভাপতির পদ। চাকরি করেও উপ-গণযোগাযোগ ও উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন খাজা আহমেদ কলিন্স। তিনি খলিসাকুন্ডি কলেজে চাকরি করেন বলে জানা গেছে।

কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বুলবুল আহমেদ সাগর নামের এক নেতা। তিনি বলেন, 'পদ দেওয়ার নামে আমাকে অপমান করা হয়েছে। যারা রাজনীতির মাঠে কখনও আসেননি তারাও গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিবাহিতদের পুনর্বাসন করা হয়েছে কমিটিতে।' মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে কয়েকজনকে পদ দেওয়া হয়েছে বলেও এই নেতা তার ফেসবুক পেজে অভিযোগ করেছেন।

ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার ভাষ্য, যাদের আদৌ দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই এমন অনেকে লবিং ও অর্থ দিয়ে পদ-পদবি বাগিয়ে নিয়েছেন।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন সরকারের ভাগনে অনিক ইমতিয়াজ অমি জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক জানান, কমিটি দেওয়ার সময় যাচাই করা হয়েছে। এর পরও কেউ যদি অপকর্মের তথ্য লুকিয়ে থাকে গঠনতন্ত্র মোতাবেক কমিটিতে তার পদ থাকবে না। তাদের কানেও কিছু খবর আসছে। এগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন তারা। তবে টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, জেলা ছাত্রলীগের কয়েকজনের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলের সভাপতি ও সম্পাদককে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলবেন তারা।