অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে জামিন দেননি আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। তবে তার জামিন আবেদনটির শুনানির জন্য আগামী ১ আগস্ট আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে দিন ধার্য করা হয়েছে।

আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম সোমবার এই আদেশ দেন। ফলে আপিল বিভাগের পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত হাজী সেলিমকে আগামী দুই মাস অন্তত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। 

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাঈদ আহমেদ রাজা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ খুরশীদ আলম খান।

২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে ঢাকার লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল তাকে এই মামলায় দুটি ধারায় ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। 

২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে তার সাজা বাতিল করেন। তবে পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল করে হাইকোর্টকে ফের আপিল পুনঃশুনানি করে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। এরপর গত ৯ মার্চ হাইকোর্ট পুনঃশুনানি শেষে হাজী সেলিমকে একটি ধারায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ১০ বছর কারাদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। 

তবে একই মামলায় তথ্য গোপনের অভিযোগে অপর একটি ধারায় তাকে দেওয়া তিন বছরের দণ্ড থেকে খালাস দেওয়া হয়। 

এছাড়া রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ হাইকোর্ট নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর গত ২২ মে হাজী সেলিম বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ওই আদালতে জামিন নাচক হলে তিনি ২৪ মে তিনি খালাস ও জামিন চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন।

সোমবার ওই আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়ছে।