স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষাঙ্গনে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করাসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় গোলাগুলিতে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহার সনি স্মরণে গঠিত 'সনি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন'।

বুধবার সকালে সনির ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বুয়েট চত্বরের সনি স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়।

ফাউন্ডেশনের অন্য দাবিগুলো হলো- শিক্ষাঙ্গনে দলীয় লেজুড়ভিত্তিক ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অপব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করা, অঙ্গসংগঠনের পরিচয়ে ছাত্র সংগঠনের ছত্রছায়ায় টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, বখাটেপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, শিক্ষার্থীদের সুস্থ সংস্কৃতি ও খেলাধুলা চর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং শিক্ষাঙ্গনে মেয়েদের নির্বিঘ্নে চলাফেরা নিশ্চিত করাসহ সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সনির বাবা হাবিবুর রহমান, বড় ভাই মো. মামুন মোল্লা, খালা রোকেয়া খাতুন, চাচী মালতী ফারুক, চাচা রুমেল খন্দকার, বান্ধবি তনুজা ভট্টাচার্য, স্থপতি সুব্রত সরকার, স্থপতি বিজয় তালুকদার প্রমুখ। এসময় ফাউন্ডেশনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে সনির বাবা হাবিবুর রহমান দেশের সব শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশের দাবি জানান। তিনি বলেন, আমার সনির মৃত্যু হলেও হাজারও সনিকে আমি দেখতে পাই। তাই আমি দুঃখ পাই না। আপনাদের কাছে দাবি রইল- আগামীর সব সনির জন্য একটি সুন্দর সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিশ্চিত করুন।

সেই দিনের ঘটনা স্মরণ করে সনির বড় ভাই মামুন মোল্লা বলেন, আমি তখন বুয়েটের লেকচারার। সেদিন আমার এক কলিগ এসে আমাকে বলে আপনার বোনের গায়ে গুলি লেগেছে। আমি দৌড়ে ঢামেকে যাই। দেখি সনি আর নেই।

সনির মৃত্যর দিন ৮ জুনকে ‘সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন দিবস’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বোনের মৃত্যু হলেও আমাদের চাওয়া ছিল শিক্ষাঙ্গনে কোনো ধরনের সন্ত্রাস থাকবে না। কিন্তু তার বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখিনি। ছাত্ররাজনীতির সব জায়গায় সন্ত্রাসীদের আগ্রাসন।

সনির বান্ধবী তনুজা ভট্টাচার্য বলেন, সনি ছিল আমাদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। মাত্র দ্বিতীয় বর্ষের সনি বর্তমানে ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছেন। সনি হত্যা কিংবা আবরার হত্যা মূলত আমাদের সরকারদলীয় ছাত্ররাজনীতির সন্ত্রাসী ভূমিকার ফল। তাই আমার দাবি ছাত্ররাজনীতি যেন নির্মোহভাবে ছাত্রের কল্যাণে হয়।

স্থপতি বিজয় তালুকদার বলেন, সনির মৃত্যুর ২০ বছর পার হলেও তার পরিবারকে কোনো সহায়তা প্রদান করা হয়নি। সনির মৃত্যুর পর তার পরিবার অনেক ধরনের দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। তাই বুয়েট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান সনির পরিবারকে যেন যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা সনি হত্যার দিনকে সন্ত্রাসবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা এবং সনির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।

২০০২ সালের জুনে বিএনপি সমর্থিত ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন বুয়েটের রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সাবিকুন নাহার সনি। এর পর ২০২১ সালে বুয়েটের ছাত্রী হলের নাম ‘সাবিকুন নাহার সনি হল’ নামকরণ করে কর্তৃপক্ষ।