বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রতি 'শ্রদ্ধা' জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহকে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতির সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি কাজী জিনাত হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দা নাসরিন।

গত ১৭ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ঐতিহাসিক মুজিনগর দিবসের আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাবি প্রশাসন। সেখানে অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ মুজিবনগর সরকারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত খন্দকার মোশতাকের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। ভুল বুঝতে পেরে অনুষ্ঠানেই খন্দকার মোশতাকের প্রতি ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেও বক্তব্য দেন তিনি। পরে অলোচনা শেষে সভাপতির বক্তব্য দেওয়ার সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান শিক্ষক সমিতির সভাপতির বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ এক্সপাঞ্জ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেও অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চান।

প্রতিক্রিয়ার মুখে ২০ এপ্রিল ঢাবির সিন্ডিকেট সভায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন অধ্যাপক রহমত উল্লাহ। তিনি আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল থেকে নির্বাচিত সভাপতি।