কৃষক ফিরোজ হোসেনের ঘরে সাত বছর আগে জন্ম নেয় আসিফ শিবা। জন্মের ছয় মাস পর দুরারোগ্য থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হয় সে, নিয়মিত দিতে হয় রক্ত। অনেক কষ্টে ধারদেনা করে তার রক্তের ব্যবস্থা করছিলেন দরিদ্র বাবা। এর মধ্যেই সংসারে আসে আলিফ নামে আরও এক সন্তান। সেও ছয় মাসে আক্রান্ত হয় থ্যালাসেমিয়ায়। অথই সাগরে পড়ে যান বাবা। দুই শিশুর রক্তের জন্য অন্যরকম এক সংগ্রামে নামতে হয় ফিরোজ হোসেনকে।

নাটোরের গুরুদাসপুরের হতদরিদ্র এই কৃষক বলেন, অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে ও এনজিও থেকে ঋণ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশন করানো হয় শিবার। তবে অবস্থার উন্নতি হয়নি, রক্ত দিতে হয়। পরে চিকিৎসক বলেছেন ঢাকায় নিয়ে অপারেশন করালে ভালো হতে পারে। টাকা লাগবে ৩ থেকে ৪ লাখ। টাকা জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় এক মাস পরপর রক্ত দিয়ে দু'জনকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি।

এ কষ্ট থেকে মুক্তি মিলছে কৃষক ফিরোজ হোসেনের। শিশু শিবা ও আলিফের জন্য আজীবন রক্তের ব্যবস্থা হয়েছে। এ জন্য এগিয়ে এসেছে গুরুদাসপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'সেভ দ্য ফিউচার ফাউন্ডেশন'। দুই শিশুকে আজীবন রক্তদানের দায়িত্ব নিয়েছে সংগঠনটি। রক্তের ব্যবস্থা হওয়ায় সন্তানদের নিয়ে ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন ফাউন্ডেশনের উপজেলা শাখার সভাপতি নাজমুল হাসান। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তমাল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু রাসেল, থানার ওসি আবদুল মতিন প্রমুখ।

ফাউন্ডেশনের সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, 'মানবতার স্পর্শে দূর হোক অন্ধকার' স্লোগানে সংগঠনের কার্যক্রম চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের মকিমপুর এলাকার দরিদ্র কৃষকের দুই সন্তানের আজীবন রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদ বলেন, গত বছরের জানুয়ারি থেকে উপজেলায় রক্তদান, অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

ইউএনও তমাল হোসেন বলেন, সংগঠনটির কর্মকাণ্ড ভালো লাগায় তাদের উৎসাহ দিতেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা। তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, থ্যালাসেমিয়া বংশগত রক্তশূন্যতাজনিত রোগ। একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর এটি অপারেশন করা যায়। এরপর তিন বছর রক্ত দিলে রোগ নিরাময় হয়। আসিফ ও আলিফকে আপারেশনের মাধ্যমে সুস্থ করা সম্ভব।